সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মানুষ ভুল করে, এটাই তার স্বভাব। কিন্তু সেই ভুলের পর যখন সে লজ্জিত হয়ে ফিরে আসে, ক্ষমা চায়, কিংবা নিজের অপারগতা স্বীকার করে, তখন তার হৃদয়টা হয়ে ওঠে নরম, ভঙ্গুর এবং আশাবাদী। এই মুহূর্তে তার সামনে দুটি পথ থাকে—একটি ক্ষমার, অন্যটি কঠোরতার। আর ঠিক এখানেই একজন মুমিনের চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে।
কেননা ইসলাম মানুষের সঙ্গে আচরণকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে। বিশেষ করে যখন কেউ নিজের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হয়, তখন তার সেই অবস্থাকে সম্মান করা, তার অপারগতা গ্রহণ করা এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া—এগুলোই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
পক্ষান্তরে কেউ যদি সেই লজ্জিত মানুষটির অনুরোধ বা ওজরকে অগ্রাহ্য করে, তাহলে তা শুধু কঠোরতা নয়, বরং একটি গুনাহর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রশংসা করে বলেন, যারা নিজেদের ক্রোধ সংযত করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।

’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
অন্যত্র আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘(হে নবী) আপনি ক্ষমা করুন, সৎকাজের আদেশ দিন এবং অজ্ঞদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখেন।’ (সুরা: আরাফ, আয়াত: ১৯৯)
এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলাম ক্ষমা ও সহনশীলতার ধর্ম। মানুষের ভুলকে এড়িয়ে যাওয়া এবং ক্ষমা করে দেওয়া শুধু নৈতিকতা নয়, বরং এটি আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার এক অনন্য উপায়। এ বিষয়ে হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের নিকট ওজর বা অপারগতা পেশ করে, আর সে তা গ্রহণ করে না-সে যেন অন্যায়ভাবে কর আদায়কারীর মতো অপরাধী।
’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৭১৮)
এই হাদিস আমাদের সামনে একটি গভীর বাস্তবতা তুলে ধরে। অন্যের লজ্জা, অনুতাপ ও অসহায়ত্বকে অস্বীকার করা শুধু মানবিকতার অভাব নয়, বরং এটি এমন এক গুনাহ, যা একজন মানুষকে কঠোর হৃদয়ের অধিকারী করে তোলে।
অতএব মুমিনের উচিত মানুষের ভুলের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা এবং নিজের অন্তরকে কোমল রাখা। কারণ, আমরা যেমন অন্যের ক্ষমা প্রত্যাশা করি, তেমনি আল্লাহর কাছ থেকেও ক্ষমা পেতে চাই—আর আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যারা অন্যকে ক্ষমা করে।









