রফিকুল ইসলাম
রাত পোহালেই কাল ভোট। প্রচারণা শেষে এ নির্বাচন ঘিরে নানা সমিকরণ ঘুরপাক খাচ্ছে এখন ভোটের মাঠে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়টি হলো-কারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন এবার; সেটি। তার মধ্যে কে হতে পারেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী? বিগত তিনটি নির্বাচনে অন্তত এ দুটি প্রশ্ন উত্থাপনের তেমন সুযোগ ছিল না। মানুষ ভোটের আগেই জানত, কারা সরকার গঠন করবে, কে হবেন প্রধানমন্ত্রীব। তবে এবার হিসাব-নিকাশ অনেকটাই জটিল সমিকরণে এসে দাঁড়িয়েছে।
ফলে এখন পর্যন্ত আমার কাছে মনে হচ্ছে, গত ১৭ মাসে সবদিক থেকেই ব্যর্থ ইউনূস সরকারের সফলতা বলতে এটুকুই। কিন্তু নকআউট এই ভোটের খেলায় চূড়ান্ত সময় বাকি আছে শুধুমাত্র আর একটি দিন। সেটি হলো-আগামিকাল। সে খেলায় সরকার কতটুকু নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা বজায় রাখতে পারে; সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোটার তথা জাতির কাছেও।

যদিও সরকার এরই মধ্যে হ্যাঁ-না প্রশ্নে কিছুটা হলেও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তার পরেও আজকে পর্যন্ত ভোটের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তত ৯৫ ভাগ সফলভাবেই নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে বলে আমি মনে করি। বাকি ৫ ভাগ নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পক্ষে ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলে। যদিও তার কথায় ভোটের মাঠে তেমন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ তিনি যে আকাশচুম্বি গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষ মসনদে বসেছিলেন, নানা কাণ্ডে ততটুকুই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন।
যায় হোক, এখন জনগণ যদি কাল ঠিকমতো ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, আর সুষ্ঠভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলেই নতুন একটি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাবেন দেশবাসী। আগামী পরশুদিন সকালের মধ্যেই হয়তো চূড়ান্ত হয়ে যাবে, কারা সরকার গঠন করছে, আর কে হচ্ছেন আগামীর ১৩তম প্রধানমন্ত্রী।
নতুন এই সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো।
পাশাপাশি এই আহ্বানও থাকবে, অনেক তো হলো-আসুন না হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে এখন আমরা আগামীর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ি। যে বাংলাদেশে হবে আমাদের সবার। যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। দলমত, ধর্ম-বর্ণ, গরিব-ধনি সবারই হবে বাংলাদেশ, আমাদের গর্বের লাল-সবুজের পতাকার দেশ।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট









