সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیۡنَ . فَمَا زَالَتۡ تِّلۡكَ دَعۡوٰىهُمۡ حَتّٰی جَعَلۡنٰهُمۡ حَصِیۡدًا خٰمِدِیۡنَ
সরল অনুবাদ :
তারা বলল, ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো অবশ্যই জালিম ছিলাম। তখন তাদের এই বিলাপ চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাদের কেটে ফেলা শস্য ও নিভে যাওয়া আগুন সদৃশ না করি। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১৪-১৫)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিনসহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। আর মানুষ সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা তার ইবাদত করে।
সৎ কাজের আদেশ করে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে। তাই জুলুম, অত্যাচার, অন্যায়, অবিচার কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। কেননা আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে, ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি সৃষ্টি করেছেন, ‘যারা মন্দ কাজ করে যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন এবং যারা সৎকাজ করে তাদের তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন।
’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩১) (ইবন কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)
আল্লাহর আজাব যখন অবধারিত হয়ে গিয়েছিল তখন তারা জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত নিজেদের জুলুম-অত্যাচারের কথা স্বীকার করেছিল কিন্তু তাদের কোনো কাজে আসেনি। আর حَصِيد অর্থ কাটা ফসল এবং خامِد অর্থ নিভে যাওয়া আগুন। অর্থাৎ, শেষ পর্যন্ত তারা কাটা ফসল ও নিভে যাওয়া আগুনের মত ভষ্মস্তূপে পরিণত হয়েছে। কোন প্রকার শক্তি, ক্ষমতা, অনুভূতি ও স্পন্দন কিছুই তাদের মাঝে ছিল না।
(তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. জুলুমের পরিণতি অনিবার্য। কেননা জুলুম কখনো স্থায়ী হয় না। এমনকি জালেম তার জুলুমের কথাও স্বীকার করে কিন্তু তখন আর কোনো কাজে আসে না।
২. আজাব অবধারিত হয়ে গেলে তখন শত অনুশোচনা করলেও কোনো লাভ হবে না। তাই সময়ের আগেই তাওবা করে রবের দিকে ফিরে আসা উচিত।
৩. আল্লাহর বিচার ন্যায়ভিত্তিক এবং তার শাস্তিও অত্যন্ত কঠিন। যা যুগে যুগে জালেমদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
৪. মানুষ উদাসীনতার কারণে সতর্কবার্তাকে কোনো কিছু মনে করে না। ফলে এই উদাসীনতাই তার ধ্বংস ডেকে আনে।
৫. সত্য অস্বীকারের পরিণাম হয় অত্যন্ত অপমানজনক। ফলে সত্য প্রকাশিত হলে মানুষ লজ্জিত ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাই সময় থাকতে ভুল স্বীকার করে ফিরে আসা (তওবা করা) অত্যন্ত জরুরি।









