অর্থ ও বাণিজ্য

অনুমোদিত মূলধন বাড়াবে রিং শাইন টেক্সটাইল

নিউজ ডেস্ক১৯ ডিসেম্বর ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পুঁজিবাজারের বহুল আলোচিত কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন নেয়া হয়েছে।

কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, রিং শাইন টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ৪৪০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৪০ কোটি টাকা করা হবে। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরজেএসসি থেকে এটি অনুমোদন করা হয়েছে।

বহুল আলোচনা-সমালোচনার পর গত ১২ ডিসেম্বর থেকে শেয়ারবাজারে রিং শাইনের শেয়ার লেনদেন শুরু হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে রিং শাইন টেক্সটাইলকে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার অনুমোদন দেয়। এ অনুমোদন নিয়ে ২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিও আবেদন গ্রহণ করে।

প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করছে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা। শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকবজা ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

আইপিও আবেদন গ্রহণের পর ডিএসইর পরপর দু’টি পর্ষদ সভাতে রিং শাইন টেক্সটাইলের আইপিও অনুমোদন পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, অস্তিত্বহীন ইউনিভার্স নিটিং কোম্পানির নামে রিং শাইন টেক্সটাইলের প্রায় ২৫ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। রিং সাইন টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ইউনিভার্স নিটিংয়ের চেয়ারম্যান পদে আছেন, যা অনৈতিক। এ বিষয়ে ডিএসই থেকে বিএসইসিতে একটি অভিযোগও দেয়া হয়।

এরপর গত ৫ নভেম্বর কমিশন সভা করে বিএসইসি জানায়, বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে রিং শাইন টেক্সটাইল নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মিথ্যা।

এ ছাড়া ইউনিভার্স নিটিং কোম্পানির নিয়মিত পরিচালনায় সক্রিয় থাকার প্রমাণাদি কমিশনে পাঠায় রিং সাইন। এতে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। যাতে বিষয়টি সভায় ডিসক্লোজার ভিত্তিতে সমাধান হয়েছে।

তবে শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে রিং শাইন টেক্সটাইলের এমডির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইউনিভার্স নিটিং গার্মেন্টস কর্তৃকি রিং সাইনের শেয়ারে ১ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর লক-ইনের শর্তারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কমিশনের এ সিদ্ধান্ত নেয়ার ১৩ দিনের মাথায় রিং শাইনের শেয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। তবে ডিএসই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ২০ নভেম্বর সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে রিং শাইন টেক্সটাইল। ফলে তালিকাভুক্তি নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। বিদ্যমান দুটি আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন নিয়ে এ জটিলতা দেখা দেয়।

বিদ্যমান আইন অনুসারে, লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণার পরবর্তী লেনদেন দিবসে সার্কিট ব্রেকার বা শেয়ারের মূল্য পরিবর্তনের সীমা থাকে না। এ হিসেবে রিং শাইনের শেয়ার লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে সার্কিট ব্রেকার থাকার কথা নয়।

কিন্তু সম্প্রতি জারি করা বিএসইসির একটি নির্দেশনা অনুসারে, আইপিও পরবর্তী প্রথম লেনদেনের দিন থেকেই সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে। আইনের এ জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইর সিদ্ধান্তের পরও রিং শাইনের শেয়ার লেনদেন চালু করতে দেরি হয়। অবশ্য সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ১২ ডিসেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে।