সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
সদ্যোবিদায়ি ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটে দেশের অর্থনীতি ছিল প্রায় বিপর্যস্ত। অথচ পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে চট্টগ্রাম বন্দর। গত বছর কনটেইনার পরিবহনে ৭.৪২ শতাংশ ও খোলা পণ্য (কার্গো) পরিবহনে ৩.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় পাঁচ-ছয় দিনের বদলে এক দিনে নেমে এসেছে।
বন্দরে পড়ে থাকা অতি দাহ্য সোডিয়াম নাইট্রো ক্লোরাইডবাহী ৫৯ টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক কনটেইনার) কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে নতুন বছরের প্রথম দিন সকালেই নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) আসেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, ‘বন্দরের ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত করা হয়েছে। এতে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে গতি বেড়েছে।
এই গতি ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক বাড়বে।’
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস কনটেইনার এবং ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় কনটেইনারে ৭.৪২ শতাংশ, কার্গোতে ৩.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে তিন হাজার ৮৬৭টি।
বহির্নোঙরে জাহাজের গড় অপেক্ষার সময় এক দিনে নেমে এসেছে। তবে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যা কমেছে ২৩৬টি। ২০২৪ সালে বন্দরে জাহাজ এসেছে তিন হাজার ৮৬৭টি। ২০২৩ সালে এসেছিল চার হাজার ১০৩টি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পঞ্জিকা বর্ষ অনুযায়ী, রাজস্ব আয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা গত বছরের রাজস্ব আয় চার হাজার ১৬৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার তুলনায় ২১.৩৯ শতাংশ বেশি এবং রাজস্ব উদ্বৃত্ত ২০২৪ সালে দুই হাজার ৯৪৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা হয়েছে, যা গত বছরের দুই হাজার ১৪৩ কোটি ১০ লাখ টাকার চেয়ে ৩৭.৬০ শতাংশ বেশি।
২০২৪ সালের রাজস্ব ব্যয় দুই হাজার ১০৭ কোটি দুই লাখ টাকা, যা গত বছরের রাজস্ব ব্যয় দুই হাজার ২২ কোটি আট লাখ টাকার তুলনায় ৪.২০ শতাংশ কম। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪-১৫ বছর যাবৎ পড়ে থাকা অতি দাহ্য সোডিয়াম নাইট্রো ক্লোরাইডবাহী চারটি কনটেইনার গত ২৭ অক্টোবর নিলামের মাধ্যমে বিডারকে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৫২ টিইইউএস কনটেইনারের পণ্য ধ্বংসের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে শুল্ক বিভাগ (৬ অক্টোবর থেকে ২৩ ডিসেম্বর) ৫৯ টিইইউস কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করেছে।
ফুল কনটেইনার লোড (এফসিএল) বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (অফডক) প্রেরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্বের সব আধুনিক বন্দরের মতো এফসিএল কনটেইনার বন্দর অভ্যন্তরে খুলে ডেলিভারি দেওয়ার পরিবর্তে অফডক থেকে ডেলিভারির অনুমতি দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় এক মিলিয়ন টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যার মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বেশি আয় হবে।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড ও টার্মিনালের জন্য ৪৯টি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১২টি যন্ত্রপাতি, এলসি খোলা হয়েছে ১৯টি যন্ত্রপাতির এবং একটি যন্ত্রপাতির এলসি খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া বন্দরে ভারি কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় একটি লিফট কার্গো জেটি নির্মাণ প্রকল্প বর্তমানে চলমান।
কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৪৭ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর এম ফজলার রহমান, সদস্য (অর্থ) মোহাম্মদ শহীদুল আলম, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুকসহ বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল ও জেটির কর্মকর্তারা।
সূত্র: কালের কণ্ঠ









