সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
কোরআন ও সুন্নাহে বর্ণিত ধারাবাহিকতার বিপরীত অজু করা মাকরুহ। এর কারণ হলো, সাধারণত মানুষ থেকে আল্লাহ তাআলার বিধানবিরোধী কাজ ও গুনাহ ওই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়, অজুর যে ধারাবাহিকতা কোরআনে বর্ণিত আছে। তাই অজুর অঙ্গগুলো ধারাবাহিকভাবে ধৌত করে আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা থেকে মুক্ত করার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। যেমন—সাধারণত যে অঙ্গ দ্বারা মানুষের সর্বপ্রথম গুনাহ প্রকাশ পায় সে অঙ্গকে সর্বপ্রথম ধৌত করার বিধান দিয়ে তাকে গুনাহ বর্জন এবং তাওবার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম চেহারা ধৌত করার আদেশ করেছেন। এর ভেতর মুখ, নাক, এবং দুই চোখ অন্তর্ভুক্ত। প্রথমে কুলি করার মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করা হয়। এর দ্বারা জবানের তাওবার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা মানুষের জিহ্বা আল্লাহ তাআলার বিধানের বিরোধিতায় সমস্ত অঙ্গের আগে থাকে। এ সম্পর্কে নবী (সা.) বলেন, ‘আদম সন্তানের বেশির ভাগ গুনাহ তার জবান দ্বারা সংঘটিত হয়।’

তেমনিভাবে কুফরি বাক্য, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, গালিগালাজ এবং হাজারো অশোভন ও অনর্থক কথাবার্তা জবান দিয়ে বের হয়।
তার পর নাকে পানি ঢেলে পরিষ্কার করা হয়, যা নিষিদ্ধ ঘ্রাণ এবং অহংকারী বোধশক্তি থেকে তাওবা করার ইঙ্গিত। তারপর সব চেহারা ও দুই চোখ কপালসহ ধৌত করা হয়, যেটা সামনাসামনি সব গুনাহ এবং চোখের অসৎ দৃষ্টি বর্জনের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। তারপর উভয় হাত ধৌত করা হয়, যা হাতের গুনাহ বর্জনের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। কেননা মানুষ যখন কথা বলে এবং চোখ দিয়ে দেখে তখন হাত দিয়ে ধরে বা স্পর্শ করে। তারপর মাথা মাসেহ করা হয়, ধৌত করা হয় না। মূলত মাথা থেকে সর্বপ্রথম অপরাধ সংঘটিত হয় না; বরং প্রতিবেশী জবান ও চোখের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। তাই মাথার ক্ষেত্রে ধোয়া ও না ধোয়ার মাঝামাঝি মাসেহর বিধান দেওয়া হয়েছে। তারপর কান মাসেহ করা হয়। কেননা বেশির ভাগ সময় মানুষের কানে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আওয়াজ প্রবেশ করে। তাই তাকে ধোয়া ও না ধোয়ার মাঝামাঝি মাসেহর বিধান দেওয়া হয়েছে।
উল্লিখিত অঙ্গ তথা—মাথা ও কান মাসেহর ক্ষেত্রে এগুলোর অবাধ্যতা, ন্যায়নিষ্ঠা কথা শ্রবণ না করা ইত্যাদি খারাপ কাজ থেকে তাওবা করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, এগুলোকে ধোয়ার বিধান প্রদান করা হলে অনেক সমস্যা হতো এবং মানুষ কষ্টে পতিত হতো। কেননা যে ব্যক্তির পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পাঁচবার অজু করা প্রয়োজন পড়ে, তার মাথায় যদি প্রত্যেকবার পানি ঢালতে হয় তাহলে নিঃসন্দেহে এ কাজ তার জন্য অনেক কষ্টের হবে। অথচ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—‘আল্লাহ চান না তোমাদের কোনো কষ্ট হোক।’
তারপর পা ধৌত করা হয়। কেননা চোখ দর্শন করে, জবান কথা বলে, হাত নড়াচড়া করে, কান শ্রবণ করে আর সবার পরে পা চলে, তাই পা ধৌত করাকে সবার পরে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেননা এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার বিরোধিতা সবার পরে সংঘটিত হয়, তাই সবার পরে তার তাওবার সুযোগ এসেছে।
তিনবার করে প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার বিধান দ্বারা তাওবার তিন শর্ত তথা গুনাহর ওপর লজ্জিত হওয়া, গুনাহ বর্জন করা এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার অঙ্গীকার করার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
(আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর)









