সিল্কসিটিনিউজ ডেস্কঃ
অজু পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম উপায়। নামাজ পড়ার আগে অবশ্যই অজু করে নিতে হয়। অজুর অনেক সুন্নত ও আদব রয়েছে। তবে অজুর মধ্যে চারটি কাজ করা ফরজ। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে আর পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে…।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬)
এ আয়াত থেকে জানা যায়, অজুর মধ্যে মৌলিক ও প্রধান কাজ হলো চারটি। ১. মুখমণ্ডল ধৌত করা। ২. উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করা। ৩. মাথা মাসেহ করা। ৪. উভয় পা টাখনুসহ ধৌত করা।

প্রশ্ন হলো, অজুতে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত, আর উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করতে হয় কেন?
এর কারণ হলো—
প্রথমত, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে চিকিৎসকরা মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সর্বাধিক পরিমাণ হাত ধৌত করার তাগিদ দিয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করে থাকে। ইসলাম এর সঙ্গে পার্থক্য করে কনুই পর্যন্ত ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সাধারণ হাত ধৌত করার সঙ্গে অজুর পার্থক্য হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেছেন যে হাত ও মুখ ধৌত করার দ্বারা অন্তর ও কলিজা শক্তি লাভ করে এবং পানির প্রভাব রগের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করে। সুতরাং উত্তমভাবে তখনই ধোয়া হয় যখন হাতের ওই সব রগ ধৌত করা হয়ে যায়, যেগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর যেসব রগ অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে সেগুলোর কিছু হাতের আঙুল থেকে, কিছু হাতের তালু থেকে, কিছু হাতের বাহু থেকে এবং কিছু কনুই থেকে শুরু হয়। এ জন্যই কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়া নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন সব রগ ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
তৃতীয়ত, অজুতে যখন শরীরের মূল অঙ্গগুলো ধৌত করার বিধান রাখা হয়েছে, তখন হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করার বিধান এ জন্যই দেওয়া হয়েছে যে এর চেয়ে কম ধোয়া হলে তার প্রভাব মানুষের অন্তরে অনুভূত হয় না। কেননা কনুই থেকে কম পরিমাণ অসম্পূর্ণ অঙ্গ।
[সূত্র : আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে, আল্লামা আশরাফ আলী থানভি (রহ.)]
শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভি (রহ.) লিখেছেন, অজুতে কনুই পর্যন্ত ধৌত করার বিধান এ জন্য দেওয়া হয়েছে যে এর কম পরিমাণ ধৌত করা হলে এর প্রভাব অনুভূত হয় না। অর্থাৎ এটা যে আলাদা একটা কাজ এটা বোঝা যায় না। তাই অজুতে কনুই পর্যন্ত ধৌত করার বিধান দেওয়া হয়েছে। (হুজ্জাতুল্লাহিল
অজুতে টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করার রহস্য
অজুতে টাখনু পর্যন্ত ধৌত করার বেশ কয়েকটি হেকমত রয়েছে। যথা—
১. টাখনু পর্যন্ত পা ধোয়ার রহস্য হলো, যেসব রগ পা থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে, তার কিছু রগ পায়ের আঙুল থেকে আর কিছু রগ টাখনু থেকে শুরু হয়েছে। এগুলোকে ধৌত করার দ্বারা মস্তিষ্কের খারাপ উষ্ণতা নির্বাপিত হয়ে যায়। দেহ ও মনে সতেজতা অনুভূত হয়। এ জন্যই অজুতে গিঁট পর্যন্ত পা ধৌত করা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. যেহেতু বেশির ভাগ সময় টাখনু পর্যন্ত পা উন্মুক্ত থাকে এবং এতে পায়ে কষ্টদায়ক জীবাণু ও ধুলাবালি পতিত হয়, তাই টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. টাখনু পর্যন্ত পা ধোয়ার রহস্য হলো, টাখনুর কম অংশ অপূর্ণাঙ্গ অঙ্গ। তাই টাখনুসহ পা ধৌত করা নির্দেশ দিয়ে পূর্ণ অঙ্গ ধোয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেন ধৌত করার পূর্ণ প্রভাব তাতে পতিত হয়।
মহান আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।









