রাকিব ফেসবুকে কী লিখল, আই ডোন্ট কেয়ার: মাহি

বিনোদন ডেস্ক :

এরপর থেকেই আলোচনায় এই চিত্রনায়িকা।মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মাহির স্বামী রকিব সরকার সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন।

তিনি লেখেন, ‘আস্থা…! শব্দটির সঙ্গে যখন ডিক্লেয়ারেশন ইস্যু যুক্ত হয়, তখন তার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস, নির্ভরতা ছাড়াও গভীরে অনেকগুলো সমর্থকের উপস্থিতি উপলব্ধ হওয়া খুবই প্রাসঙ্গিক। ভয়ঙ্কর রাতে আস্থার আস্তানায় সাজানো শীসা, নাইনটিজ ইন্ডিয়ান সং, মিটিমিটি আলো তার সদস্যদের সবাই দেখল। ওই আস্তানার প্রধান ফটোগ্রাফির অজুহাতে আড়ালেই রয়ে গেল সপ্তাহ-দশদিনে তো আর এমন আস্থা অর্জন করা সম্ভব নাহ…!

মূলত মাহিকে ইঙ্গিত করেই এই পোস্ট দিয়েছেন রাকিব। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন নায়িকাও।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ভিডিও বার্তা দেন মাহি। সেখানে তিনি বলেন, রাকিব সরকার আমার হাজব্যান্ড ছিলেন। রাকিব সরকার আমার ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। আমি তাকে ভালোবেসে ছিলাম। এইটুকু না, অনেক ভালোবেসেছি। এতই ভালোবেসেছি, আপনারা দেখেছেন আমি সিনেমা থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম। কেন চলে গিয়েছিলাম? কারণ তিনি পছন্দ করতেন না। আমাকে কখনও মুখ ফুটে বলেনি যে তুমি সিনেমা করতে পারবে না। আমার মনে হয়েছে ওর পছন্দ না, এই জন্যেই দূরে সরে গিয়েছিলাম। তো তাকে এই লেভেলের ভালো বেসেছিলাম। ও ফেসবুকে কী লিখল বা কী লিখল না, আই ডোন্ট কেয়ার। আমার মাথায় যদি পিস্তল ঠেকিয়েও কেউ বলে, তুমি এখনই মরে যাবে, তোমাকে শুট করব; রাকিব সম্পর্কে কিছু নেগেটিভ বলো… আই উইল নেভার ডু দ্যাট (কখনোই এমনটা পারব না)। আমি ওকে সম্মান করি এবং এটা মৃত্যু অবধি থাকবে।

সম্প্রতি মাহি তার ফেসবুক হ্যান্ডেলে কয়েকটি স্থিরচিত্র শেয়ার করেন। যেখানে মিডিয়ার বেশ কয়েকজন তারকা ছিলেন। ক্যাপশন ছিল, ‘আস্থার আস্তানা’। সেই দিকেই মূলত ইঙ্গিত করে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন রকিব সরকার।

তবে এ নিয়ে মাহির ভাষ্য, মিডিয়াভিত্তিক আমার কোনো ফ্রেন্ড নাই। মিডিয়া রিলেটেড কোনো আড্ডায় বা পার্টিতে আমাকে কখনও কেউ দেখেনি। কোনোদিনই না। আমার কিছু ফ্রেন্ড আছে, যাদের সাথে একদম ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করেছি—সেই স্কুল লাইফের। এই কয়েকজন আমার ফ্রেন্ড আছে। যদি মন খারাপ হয় তাদের সাথেই ঘুরতে যাই কিংবা তাদের সাথে আড্ডা বা গল্প করি। কারণ আমি যখন কিছুই ছিলাম না, সেই গেদা (ছোট) মাহি, তখন থেকেই তারা আমার সাথে ছিল। তো আমার মন খারাপের সময় তারা পাশে থাকলেই আমার ভালো লাগবে।

ভিডিওতে মাহি আরও বলেন, ওর (রাকিব) কি কোনো নেগেটিভ সাইড নাই? দুটি মানুষ প্রেম করার সময় বোঝা যায় না, বিয়ে করার পর বোঝা যায় কার কী প্রবলেম। আমার যে এত এত প্রবলেম এটা নিশ্চয় প্রেম করার সময় রাকিব বুঝে নাই। স্যরি (দুঃখিত), ওর সাথে আমার তো ঠিক প্রেম হয়নি, মাত্র দুই মাসের পরিচয়ে আমাদের বিয়ে হয়। যখন দেখেছি দুজনের মধ্যে ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং, তখন আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই। ও তখন তো বুঝেনি, আমার রাগ বা ইগো কেমন; যাই হোক, ও তখন দেখেনি, বিয়ে করার পর দেখেছে। তো ওর ক্ষেত্রেও একই। ওর যা যা সমস্যা ছিল, সেগুলো পরে দেখেছি, আগে দেখিনি। মানুষ মাত্রই প্রবলেম থাকবে। যখন দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকব, তখন সবই ভালো লাগবে; আবার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে একে অপরের শত্রু হয়ে যাব, এই ক্যাটাগরির মানুষ আমি আর রাকিব না।

সবশেষে মাহি বলেন, রাকিব আমার জীবন থেকে অতীত হয়ে গেছে। আমি ওর জীবন থেকে অতীত হয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের একজন আছে। যদি কোনো টান আমাদের থেকে থাকে, তা হলো সন্তান। আমি ফারিশের মা, ও ফারিশের বাবা। যেহেতু আমরা ফারিশের বাবা-মা, তাই মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ থাকবে।

২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের রাজনীতিবিদ রকিব সরকারকে বিয়ে করেন মাহিয়া মাহি। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্র ফারিশ। এর আগে ২০১৬ সালে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন মাহি। ২০২১ সালের ২২ মে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে।