জাতীয়

রোগীর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, চিকিৎসক-আনসারসহ আহত ৫

নিউজ ডেস্ক১৬ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর ও দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় চিকিৎসক, আনসার সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত এক চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আল আমিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
সদর হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন-এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হামলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার আহত হন।

হামলার সময় পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারতে মারতে জরুরি বিভাগের কক্ষ থেকে বের করে আনছেন। এ সময় তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতাল ভবনের বাইরেও তাকে ফেলে রাখা হয়।

এদিকে শনিবার সকালে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার রওনক জাহান হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই স্বজনরা জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।