আইন আদালত

বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফ : ব্যারিস্টার সারোয়ারকে হাইকোর্টে তলব

নিউজ ডেস্ক৮ নভেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পিরোজপুরের এক বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমে প্রেস ব্রিফ করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ২৬ নভেম্বর তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এবং তার প্রেস ব্রিফের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মাদ আরশাদ রউফ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খানসহ কয়েকজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, সম্প্রতি পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রেস ব্রিফ করেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। কয়েকটি গণমাধ্যমে ওই ব্রিফিংয়ের সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগেই একজন বিচারিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট বিচারক ও আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করেন আদালত।
শিহাব উদ্দিন খান বলেন, এ ঘটনায় ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন এবং তার ব্রিফিং প্রচার ও প্রকাশকারী গণমাধ্যমের সম্পাদকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২৬ নভেম্বর ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনকে সশরীরে হাজির হয়ে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সারোয়ার হোসেনের প্রেস ব্রিফের ভিডিও অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। এ জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘লইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ’ নামের পোর্টালকে ওই ব্রিফিংয়ের ভিডিও আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ডেকে প্রেসব্রিফ করেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।

ওই ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিচারক ঘুস ছাড়া বিচারকাজ করেন না। বিচারককে ‘একজন নিকৃষ্ট দুর্নীতিবাজ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনার পর গত ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মেহেফুজ ইসলামের পক্ষে ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনকে আইনি নোটিশ পাঠান আইনজীবী ইশরাত হাসান। নোটিশে বলা হয়, বিচারকের বিরুদ্ধে ‘অবাস্তব ও ভিত্তিহীন’ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিচারাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন সারোয়ার হোসেন। এ জন্য তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয় নোটিশে।