সিল্কসিটিনিউ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে এই রোগে মৃত্যুর এটিই প্রথম ঘটনা।
সোমবার নিউইয়র্কের রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও লুইস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
তারা জানায়, অঙ্গরাজ্যজুড়ে হামের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে লুইস কাউন্টির টিকা না নেওয়া এক শিশু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চার সপ্তাহ আগেই অঙ্গরাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল।

শিশুটির মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গভর্নর।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘একজন মা ও দাদি হিসেবে এই পরিবারটি এখন কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। যারা শিশুটিকে চিনতেন ও ভালোবাসতেন, তাদের সবার প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’
গভর্নর ক্যাথি হচুল বলেন, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক একটি রোগ। এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া।
নিউইয়র্কে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এটি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা।’
হামে মারা যাওয়া শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এমনকি শিশুটির বয়স ও লিঙ্গ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।নিউইয়র্কে এর আগে সর্বশেষ হামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ সালের মার্চ থেকে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত।
ওই সময় নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই প্রাদুর্ভাবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকা নর্থ কান্ট্রির লুইস কাউন্টিতে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা অঙ্গরাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যের সেনেকা কাউন্টিতে হামে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে এ বছর ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
লুইস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সেখানে শনাক্ত হওয়া ১৫ জন হামে আক্রান্তের কেউই টিকা নেননি। গত মাসে গভর্নর ক্যাথি হচুল হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আরো বেশি মানুষকে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো।
জরুরি অবস্থার আওতায় এখন নার্সরাও হাম শনাক্তের পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। পাশাপাশি রাজ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের শনাক্ত, তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা (কন্টাক্ট ট্রেসিং) এবং পরীক্ষার ফল দ্রুত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সহায়তা দেবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবাইকে এমএমআর টিকার প্রয়োজনীয় ডোজ নেওয়া আছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া।’
কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লুইস কাউন্টিকে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। হামের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বললে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পরও সেখানে বাতাসে থাকা ভাইরাসের কারণে টিকা না নেওয়া কেউ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারেন।









