সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কেটে দিয়েছে চার গ্রামের বাসিন্দারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বাঁধটি কাটার সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়।
এদিকে বাঁধ কাটার ফলে ডাকুয়ার হাওর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ডাকুয়ার বাঁধ নিয়ে ওই ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, গোলেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুল গ্রামের বাসিন্দাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টির সমাধানে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে দুই পক্ষের সঙ্গে জরুরি সভা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
এদিকে সভা চলাকালেই নোওয়াগাঁও এলাকার মছব্বির মেম্বারের নির্দেশে তার এলাকার পাঁচ শতাধিক লোক অস্ত্র ও লাটিসোঁটা নিয়ে জোর করে বাঁধ কেটে দেয়। এ সময় মোহনপুর গ্রামের লোকজন এতে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চার গ্রামের লোকজন পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রামদা, সুলফি, গুলতি মার্বেল, পাথরসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঁধ এলাকায় জড়ো হয়। এতে বাধা দিতে গেলে মোহনপুর গ্রামের আলী, আফিজ, সুকুর আলী, আজিজুল, জাহাঙ্গীরসহ উভয় এলাকার অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে বাঁধ কেটে দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কায় শুক্রবার রাতেই মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টেশন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত মোহনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের লোকজন বাঁধ কাটতে বাধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের ১০-১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।
কিন্তু চার গ্রামের লোকজন সন্ত্রাসী স্টাইলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঁধ কেটে দিয়েছে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া চার গ্রামের পক্ষের আব্দুল মুছাব্বির মেম্বার বলেন, ‘বাঁধ কারা কেটেছে আমি জানি না। প্রশাসন একটি কমিটি করে দিয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও খায়রুল আলম বলেন, ‘ছনুয়ার হাওরের কৃষকরা জোর করে ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ডাকুয়ার হাওরের কৃষকরা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। শনিবার সকালে দুই এলাকার কৃষকদের নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জরুরি সভা করে একটি কমিটি করে দেন।’
খায়রুল আলম বলেন, ‘কমিটি আগামীকাল (রবিবার) ঘটনাস্থলে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। তার আগেই বৈঠক চলাকালে নোয়াগাঁও, গোলেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুল গ্রামের কৃষকরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আইন অমান্য করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘এক পক্ষ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে জোর করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’









