সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন, কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে কাতারের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহে চলমান তদন্তের মধ্যেই নেতানিয়াহু কাতার ইস্যুকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। বেনেট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি সোলবার্গের ওপর তার আস্থা রয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্যায় হস্তক্ষেপের যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তারা দ্রুত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা তদন্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে নেতানিয়াহু ও তার মুখপাত্রদের আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টায় তিনি প্রভাবিত নন বলেও মন্তব্য করেন বেনেট।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নেতানিয়াহুর কাছে কাতারকে শত্রু রাষ্ট্র ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু নেতানিয়াহু বারবার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং উল্টো কাতারকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বেনেটের অভিযোগ, নেতানিয়াহু এখনও তার কার্যালয়ে এমন উপদেষ্টাদের রেখেছেন, যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধ চলাকালে কাতার থেকে লাখ লাখ ডলার নেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে কাতারের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বেনেট আরো অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যই কাতার ইস্যুকে সামনে আনছেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বেনেট বলেন, ‘আজ সকালে যখন বিষয়টি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে এসেছে, তখনই হঠাৎ তার কাতারের কথা মনে পড়েছে! এখন তিনি এই ইস্যুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল করার কাজে ব্যবহার করছেন।’ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রতি প্রকৃত ঘটনা দ্রুত উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান বেনেট।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ওপর আস্থা রাখি এবং দ্রুত সত্য প্রকাশের অনুরোধ জানাই।
’ নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘যদি সত্যিই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়িয়ে আজই কাতারকে শত্রু রাষ্ট্র ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে, তার কার্যালয় ও ইসরায়েল রাষ্ট্র থেকে কাতারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহিষ্কার করতে হবে।’
এ সময় ইসরায়েলের নাগরিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান বেনেট। তিনি বলেন, দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই ইসরায়েলের মানুষ বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে এসেছেন। এটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং প্রমাণ করে যে দেশের ভবিষ্যৎ সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। বেনেট আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই ভোট গণনা শেষ হবে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা, জনপ্রতিনিধিদের কাজের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশকে পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে। তার ভাষায়, ‘আমার এবং আমাদের সবার মূল লক্ষ্য কেবল দেশের কল্যাণ।’ এর আগে, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনিকে একটি অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী কিছু পক্ষ অর্থায়নের মাধ্যমে দেশটির নির্বাচনে অনৈতিকভাবে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিতর্ককে ‘ভূমিকম্পের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার অভিযোগ, বিদেশি পক্ষগুলো আরব দলগুলোর পক্ষে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে।
নেতানিয়াহু জায়নবাদী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন আরব রাজনৈতিক দল রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে। তবে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আরব রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) দলের চেয়ারম্যান মানসুর আব্বাস বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার দলের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।









