লাইফ স্টাইল

করোনায় মানসিক অবসাদ, বাড়ছে আত্মহত্যার সংখ্যা

নিউজ ডেস্ক১০ ডিসেম্বর ২০২০২ মিনিট পড়া

করোনার জেরে বন্ধ স্কুল। বন্ধ বাইরে যাওয়াও। একা থাকতে থাকতে চেপে বসেছে অবসাদ। চার দেওয়ালের মাঝখানে এতটাই হাপিয়ে উঠেছেন যে, শেষমেশ অনেকেই বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ।

করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে গত কয়েক মাসে ঘটে গিয়েছে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা। এক-এক দিনে ছ’-সাতটি করেও আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশের তথ্য বলছে, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রতি বছরই আত্মহত্যার বহু ঘটনা ঘটে। তবে করোনায় সেই সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

যদিও বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, করোনাই একমাত্র কারণ নয়। আরও নানাবিধ কারণ রয়েছে আত্মহত্যার পিছনে। ভারত আত্মহত্যার নিরিখে পৃথিবীর এক নম্বরে রয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ভারতের ১৫-৩০ বছর বয়সিদের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা সব চেয়ে বেশি বলে নানা সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ২০১৯ সালের ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরোর’ রিপোর্টও জানাচ্ছে, ওই বছর ভারতে আত্মহত্যার মোট সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ১২৩। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যাটাই ছিল ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫১৬। তবে চলতি বছরে সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন মনোরোগ চিকিৎসকেরা।

এর পিছনে কয়েকটি কারণও দেখানো হয়েছে। যেমন, অনেকেই কাজ হারিয়ে রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে তীব্র হতাশা চেপে ধরছে তাদের। আবার যারা কমবয়সি, সেই সব ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে বা বাইরে বেরোতে না পেরে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।

তবে যারা আগে থেকেই মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন, লকডাউনে তাদের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ করে লকডাউনে সব বন্ধ। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ঠিকমতো মেলেনি। ওষুধ পেতেও সমস্যা হয়েছে। লকডাউন ওঠার পরে অনেকেই আসছেন তীব্র মানসিক উৎকণ্ঠার চিকিৎসা করাতে। সেই উদ্বেগ এতটাই যে, তারা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তবে সব চেয়ে চিন্তার বিষয় হল, অনেকে নিজের মানসিক সমস্যা রয়েছে বুঝেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন না।

আত্মহত্যা রুখতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। এতে করে  কেউ অসুবিধায় পড়লেই ফোন করে কাউন্সিলিংয়ের আবেদন জানাতে পারবেন সেখানে।

 

সূত্রঃকালের কণ্ঠ