লাইফ স্টাইল

এখনকার ‘বিয়ের ফটোশুট’ যেন একটি পুরো ফিল্ম

নিউজ ডেস্ক২১ ডিসেম্বর ২০২০৪ মিনিট পড়া

বিয়ে নিয়ে প্রত্যেক মানুষের অন্য রকম স্বপ্ন থাকে। সবার জীবনে বিয়ে বারবার আসেও না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে চান সবাই। স্মৃতির মণিকোঠায় তুলে রাখতে বিয়ের ছবি তোলেন। কেউ কেউ আরেকটু এগিয়ে ভিডিও করে রাখেন। কারো বা ছবি ও ভিডিও দুটিই চাই। মূলত পুরো বিয়ের আয়োজনকে বাক্সবন্দি করে রাখতেই ক্যামেরার রঙিন দুনিয়ার দারস্থ হন নবদম্পতিরা। তাঁদের চাওয়া পূরণ করতে বিয়ের ভিডিওতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহকদের চাওয়ামতো পুরো আয়োজন ঘিরে বিয়ের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে দিচ্ছে তারা।

ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফি চিত্রগল্পের সিনেমাটোগ্রাফার আবু আশরাফ দোলনের মতে, ‘বিয়ের সিনেমাটোগ্রাফি এখন অনেক এগিয়ে গেছে। এর পেছনে রয়েছে নবদম্পতিদের আগ্রহ। জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিময় করে রাখতে ছাড় দিতে চান না তাঁরা। অনেক সময় বিয়ের ছবি থেকে সিনেমাটোগ্রাফির প্রতি নবদম্পতির আগ্রহ বেশি দেখা যায়।’

ওয়েডিং সিনেমাটোগ্রাফির প্রতি মানুষের বাড়তি আগ্রহের কারণও রয়েছে বলে মনে করেন দোলন, ‘চলমান সব কিছুই মানুষকে প্রভাবিত করে। এর সঙ্গে যখন শব্দ যোগ হয় তখন আবেগটা একটু বেশি প্রকাশিত হয়। আর স্থিরচিত্রের চেয়ে ভিডিও চিত্র মানুষকে আন্দোলিত করে বেশি।’ সিনেমাটোগ্রাফার রিজাত রেজার মতে, ‘বর্তমানে ক্যামেরা প্রযুক্তি উন্নতি হওয়ায় ভিডিওগুলো অনেক গ্ল্যামারাস ও সুন্দর হয়। এটাও বিয়ের আকর্ষণীয় ভিডিও বানানোর বাড়তি আগ্রহের কারণ।’

অনেক ওয়েডিং সিনেমাটোগ্রাফাররা পুরো বিয়ের আয়োজনকে সিনেম্যাটিক উপায়ে তুলে ধরলেও বিষয়টিকে সিনেমা বলতে নারাজ। সিনেমা অনেক বড় বিষয়। তার সঙ্গে বিয়ের আয়োজন মেলানো ঠিক নয়। তবে কেউ কেউ সিনেমার জনপ্রিয় গান, আবহসংগীত, কখনো কখনো ভাইরাল কোনো সংলাপ যেমন হালের বাবু খাইছো, খুদা লাগছে—এ রকম হালকা বিষয়ে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর কেড়েছেন। আবার কখনো কখনো এমন বিয়ের আয়োজনে নাচ, গান, হৈ-হুল্লোড়, আনন্দ-বেদনা—সর্বশেষ কনে বিদায়ের সময় বেদনাবিধুর এক আবেগঘন পরিবেশ। এসব ভিডিওর সঙ্গে সঙ্গে বর-কনের বাসা, গায়েহলুদ, পার্লার সাজ, বিয়ে পরানো, মালা বদলের ভিডিও যোগ হয়।

আকর্ষণীয় দৃশ্য ধারণের জন্যব্যবহার করা হয় ড্রোন ক্যামেরাও। বিয়ের ভিডিওটা গায়েহলুদের মতো আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও শেষ হয় কনে বিদায়ের মতো মর্মস্পর্শী একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ বিয়ের প্রি-ওয়েডিং ও পোস্ট-ওয়েডিং ভিডিও করেন। সব মিলিয়ে সম্পাদনার পর বিয়ের পুরো আয়োজনটি দেখতে সিনেমার মতোই লাগে। তবে এটাকে সিনেমা না বলে ডকুমেন্টেশন বলাই শ্রেয় বলে মত তাঁদের।

তবে এমন সুন্দর ভিডিওর জন্য আয়োজনেরও কমতি রাখা যাবে না বলে জানালেন দোলন, ‘ভালো বিয়ের ভিডিওর জন্য বিয়ের অনুষ্ঠান এবং তার আয়োজন দুটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের মতো ব্যাপারে দুটি নতুন মানুষ এবং তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অনেক জানা-অজানা গল্প থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা সেসব প্রকাশ করতে চায়। এটাকে একটু সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়ার ট্রেন্ড চলছে। এ জন্য নবদম্পতিসহ পুরো বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে যারা যুক্ত থাকে প্রত্যেকের অংশগ্রহণ জরুরি।’

বিয়ের ভিডিওর জন্য ওয়েডিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগাযোগ করলে তারাই পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে মজার মজার আইডিয়া দেয়। তবে তাতে যোগ করতে পারেন আপনার চাওয়া-পাওয়াও। নির্দিষ্ট লোকেশন, আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা, কোথায় বিয়ের কোন পর্বের কী আয়োজন, আপনাদের বলা-না বলা গল্পগুলো তাদের সঙ্গে শেয়ার করুন। সাধারণত গ্রাহকদের বলা গল্প, পূর্ববর্তী-পরবর্তী ঘটনা, বর্তমান পরিণতি—সব মিলিয়ে যেকোনো একটিকে হাইলাইট করে বিয়ের সিনেমাটোগ্রাফির গল্প সাজানো হয়। গল্প ও আইডিয়া মিলেই তৈরি হয় পুরো ভিডিও আয়োজনের প্রি-প্রডাকশন।

দোলনের মতে, ‘বিয়ের সিনেমাটোগ্রাফির ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় কাজ করতে করতেই অভিনব চিন্তা চলে আসে। এরপর সে অনুযায়ী ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। একটা সাধারণ ঘটনাকে একটু অন্য চোখে প্রকাশ করাই সিনেমাটোগ্রাফারদের কাজ। আলোকচিত্রীরাই আইডিয়াগুলোর সুতা বোনেন। সর্বশেষ সুন্দর মিউজিক, শ্রোতাপ্রিয় গান, বিয়েতে ধারণ করা শব্দ, আলো ও সম্পাদনার খেলায় বিয়ের সিনেমাটোগ্রাফি সম্পন্ন করা হয়। কখনো কখনো দম্পতিদের হানিমুন পর্বও যোগ করে আনা হয় ভিন্নমাত্রা।’

বিয়ের ভালো সিনেমাটোগ্রাফির জন্য ফটোগ্রাফির সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করা জরুরি। এখানে বর-কনে ও বিয়ের সঙ্গে জড়িতদের এক্সপ্রেশনটাই মুখ্য। তাই সময় দিন। তাহলেই সুন্দর বিয়ের সিনেমা সম্ভব।

কারা করছে

ওয়েডিং প্ল্যার্নাস, চিত্রগল্প, ছায়াছবি, নিজল ক্রিয়েটিভ, প্রীত রেজাসহ বেশ কিছু ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান বিয়ের ভিডিও এবং ছবি তুলে দেয়। বিয়ের সিনেমাটোগ্রাফি তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ