সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক : মগবাজারে আবাসিক হোটেল থেকে সৌদিপ্রবাসী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কেয়ারটেকার রফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. জালাল উদ্দিন এ তথ্য উল্লেখ করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।মামলা সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদে মনির হোসেন গ্রামে আসেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মনির তাদের চাচাত চাচা রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে ঢাকাসহ গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় জমিজমা ও বাড়ি কেনেন। চাচা রফিকুলই সেসব দেখভাল করছিলেন ।
এজাহারে বলা হয়, মনির দেশে আসার পর জমিজমা ও টাকা পয়সার হিসাব নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়।
এর মধ্যে ২৮ জুন মনির ছেলের চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন। তারাসহ ঢাকায় অবস্থান করা চাচা রফিকুল ইসলাম নিউ ইস্কাটন রোডের এসপিআরসি হাসপাতালে যান। ওই দিন চিকিৎসকের সিরিয়াল না পেয়ে মনির স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মগবাজারের ‘সুইট স্লিপ’ হোটেলে ওঠেন। বিকালে পাশের ‘ভর্তা ভাত’ হোটেলে গিয়ে খাবার খান মনির ও রফিকুল ইসলাম।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মনিরের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য খাবার নিয়ে হোটেল কক্ষে যান রফিকুল। এরপর রফিকুল তার বাসায় চলে যান। চাচা রফিকুলের আনা খাবার মনির ও তার পরিবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তারা বমি করতে থাকেন, তাদের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর গত ২ জুলাই প্রবাসীর ভাই নুরুল আমিন বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।পরে এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিন আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।