আইন আদালত

পান্থকুঞ্জ রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টাকে গাছ রক্ষা আন্দোলনের চিঠি

নিউজ ডেস্ক৬ মে ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন।

চিঠিতে এই সংযোগ সড়ককে ‘রাজধানীর পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিল ধ্বংসকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, জনভোগান্তি, হতাহতের ঘটনা, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে চিঠিতে।

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল রক্ষার দাবিতে চলমান লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ১৪৩তম দিনে গাছ রক্ষা আন্দোলন এই চিঠি দিল।

প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া চিঠিতে গাছ রক্ষা আন্দোলন বলেছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে কতিপয় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের জন্য বিগত সরকারের আমলে এই প্রকল্প নেওয়া হয়। দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া এই রাজধানী শহরের অতিসংবেদনশীল প্রাকৃতিক পরিবেশের শেষটুকুও কেড়ে নিচ্ছে এই প্রকল্প।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঢাকা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা কাঁঠালবাগান, সেন্ট্রাল রোডসহ দিলু রোডের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ হাতিরঝিল ভরাট করে এবং এই এলাকার একমাত্র সবুজ এলাকা পান্থকুঞ্জ পার্কের ৪৫ প্রজাতির ২ হাজার গাছ ধ্বংস করে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রাস্তার নির্মাণকাজ চলছিল, যা গাছ রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের প্রচেষ্টায় এখন সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

চিঠিতে বেশ কিছু দাবিও জানানো হয়েছে। গাছ রক্ষা আন্দোলনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে হাতিরঝিল ভরাট করে স্থাপিত পিলারগুলো সরিয়ে জলাধারের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

সূত্র: যুগান্তর