আইন আদালত

নানক ও তাপসের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

নিউজ ডেস্ক১০ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর জন্য আগামী ৮ জুন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পরসাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে রবিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়।

আদালতে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এরপর শুনানি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান।

আর গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সিফাত হাসান, গাজী ফয়সাল ও মো. আসাদুজ্জামান।
এ মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চার জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন- ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনান, ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তিনি বলেন, এই মামলার ২৮ আসামির অব্যাহতির যে আবেদন করা হয়েছিল, তা খারিজ এবং একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হলো।

এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় হত্যাসহ তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে গ্রেপ্তার চার আসামিকে জিজ্ঞেস করা হয় তাঁরা অভিযোগ স্বীকার করেন কি না। জবাবে চার আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চান।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।