আইন আদালত

ভয়ের কিছু নেই, আমরা এই তরি বয়ে নিয়ে যাব : ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান

নিউজ ডেস্ক১৭ জুন ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ভয় ও পক্ষপাতহীনভাবে জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আল্লাহর ওপর নির্ভর করে পথ চলি। তার ওপর নির্ভর করে কাজ করি। কেউ বোমা মারলেও ভয় পাব না।

কেউ গুলি করে মেরে ফেললে আমার সব গুনাহ নিয়ে যাবে। ফলে আমার ভয়ের কারণ নেই। আমি কবরের পাশে দাঁড়ানো, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। ভয়ের কিছু নেই, আমরা এই তরি বয়ে নিয়ে যাব।

’
ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার তরান্বিত করতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে গত ৮ মে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করে সরকার। এই ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আরো পড়ুন
এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ
এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ

আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও চিফ প্রসিকিউর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কিছু লোক গত ১৫ বছর ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। তারা নিষ্ঠুরভাবে শাসন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস করেনি। মানুষ নিজেদের কথা বলতে পারেনি। সেই ফ্যাসিস্টরা এখনো ফিরে আসার চেষ্টা করছে।

’
আরো পড়ুন
রাজধানী থেকে সাবেক এমপি সরওয়ার জাহান গ্রেপ্তার
রাজধানী থেকে সাবেক এমপি সরওয়ার জাহান গ্রেপ্তার

তিনি আরো বলেন, ‘শত শত ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে মানুষকে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে গেছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে এখনো যথাযথ চিকিৎসা পায়নি। আমরা বিচারকরা চেষ্টা করছি তাদের দুর্ভোগ কমাতে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নাম উচ্চারণ করে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভয়হীন ও পক্ষপাতহীনভাবে তারা কাজ করবেন। তাদের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করা যায়। তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে চলবেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বিষয়গুলোও মেনে চলবেন।’

সংবর্ধনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব রকম অন্যায়-অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের যেমন প্রত্যাশা, একই সঙ্গে এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন যাতে না থাকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাতে ন্যায়বিচারটা করা হয় সেটাও নিশ্চিত করা। এটাই ট্রাইব্যুনালের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।’

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা দেখতে চাই, আমাদের এই বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। ন্যায়বিচার হলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দিনের ভোট রাতে করার সাহস কেউ পাবে না। সেই আলোর পথ দেখানোর জন্য হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সংবর্ধনা উপলক্ষে এজলাসে বসার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে কিছু মামলা এখানে আসবে বলে আশা করছি। আর কিছু নতুন মামলা এখানে দাখিল করা হবে। ইনশাআল্লাহ, বিচারের অগ্রগতি দেশবাসী দেখতে পারবে।’

এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুমের আতঙ্ক থেকে জাতিকে যদি উদ্ধার করতে হয়, তাহলে পেছনে ঘটে যাওয়া সব অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই ট্রাইব্যুনালগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলো যাতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে বিচারপ্রক্রিয়াটা শেষ করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা আমরা ব্যক্ত করেছি।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। পতনের পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরাচার-ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়েছে ছাত্র-জনতা। আন্দোলনে কমপক্ষে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে অন্তর্র্বতী সরকার। আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নজিরবিহীন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার ঘোষণা দেওয়ার পর অন্তর্র্বতী সরকার গত বছর ১৪ আগস্ট তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ গঠন করা হয়। সূত্র: কালের কণ্ঠ