গুলশান নিয়ে ফেসবুকে এখন যা চলছে

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ফেসবুকে গেলে পরিচিত অনেকেরই প্রোফাইলের কভার ছবিটি কালো দেখতে পাবেন। রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক জানাতে অনেকেই তাঁদের কভার ছবিটি কালো করে দিয়েছেন। আজ থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। শোক পালনে অনেকেই বেছে নিয়েছেন ফেসবুককে। তাঁরা প্রোফাইল ও কাভার ছবি হিসেবে কালো ব্যাজ ব্যবহার করছেন। কেউবা স্ট্যাটাস বা নোট লিখে শোকের কথা প্রকাশ করছেন।
এ ছাড়া ফেসবুকে হ্যাসট্যাগ হিসেবে ‘প্রে ফর ঢাকা’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ প্রভৃতি অনেকেই ব্যবহার করেন।
ফেসবুকে অনেকেই জঙ্গিদের বর্বরতার শিকার হওয়া ফারাজ আইয়াজ হোসেন, আবিন্তা কবির, তারুশি জৈন ও ইশরাত আকন্দের ছবি শেয়ার করে তাঁদের শোকের কথা লিখছেন। এ ছাড়া জঙ্গিবাদের বর্বরতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে সোচ্চার অনেকেই।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই জঙ্গি হামলার পর থেকেই মানুষ ফেসবুকে নানাভাবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। ফেসবুক হয়ে ওঠে খবরের উৎস।

রাত দেড়টার দিকে আইএসের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক নিউজের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এক টুইট বার্তায় জানায়, আইএস দাবি করেছে, তারা ঢাকার রেস্তোরাঁয় আক্রমণ করে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে রেখেছে। এরপর আমাক নিউজ ওই রেস্তোরাঁর ভেতর থেকে রক্তাক্ত আট-নয়জনের ছবিও প্রকাশ করে। এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হতে থাকে।

গতকাল রাতে গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলাকারী উল্লেখ করে পাঁচ তরুণের ছবি প্রকাশ করে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই ছবিগুলো ভাইরাল হয়। ওই ছবিগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই জঙ্গিদের পরিচয় বের করেছেন বলে ফেসবুকে ছড়াচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল রাত ১০টা ৫১ মিনিটে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গির নাম প্রকাশ করা হয়। তাঁরা হলেন আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন।

এ ছাড়া ফেসবুকে ওই রেস্তোরাঁর কাছাকাছি একটি ভবন থেকে একজন বিদেশির কিছু আপলোড করা ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। একেকটি ভিডিও দেখা হয়েছে লাখো বার।

একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ভোরবেলায় চারজন নারী, তিনজন পুরুষ ও একটি শিশু রেস্তোরাঁর সামনের চত্বর দিয়ে হেঁটে বের হয়ে যাচ্ছেন। এঁদের ছেড়ে দেওয়ার পর ছাই রঙের গেঞ্জি পরিহিত পিস্তল হাতে একজনকে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। ভেতরে একটি টেবিলের পাশে দুজন বসে আছেন। দুটি ক্লিপে কমান্ডো অভিযানের কিছু দৃশ্য আছে। তাতে দেখা যায়, দুটি সাঁজোয়া যান সজোরে রেস্তোরাঁর নিচতলার দেয়ালে আঘাত করে তা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। আরেক ক্লিপে পাঁচজন সেনাসদস্য ভবনের ভেতরে বোমাজাতীয় কিছু একটা ছুড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সারিবদ্ধ অবস্থানে থেকে অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় অনেক গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল।

শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় তলোয়ার-আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ঢুকে পড়ে সাত জঙ্গি। তারা দেশি-বিদেশিদের জিম্মি করে।

অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন। ৪০ জনের মতো আহত হন। জঙ্গিরা ওই রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। তাঁদের বেশির ভাগই বিদেশি। পরদিন শনিবার সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো অভিযান চালায়। এতে ছয় জঙ্গি নিহত হয়। গ্রেপ্তার হয় একজন। আর ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

Print