শিবগঞ্জে প্রতারক গাড়ী চালক পিন্টু গ্রেফতার

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
অবশেষে একাধিক ঘটনার প্রতারক গাড়ী চালক নূর আলম পিন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পৌর এলাকার একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পিন্টুর বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে থানায় একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ থেকে জানাযায়, নুর আলম পিন্টু এমপির গাড়ি চালক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন জনকে সরকারি চাকরিসহ নানা প্রলোভন দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। আর এ প্রতারণার কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে তার আপন ভাই পুলিশ কনস্টেবল সারওয়ার জাহান নান্টু।

 

প্রতারণার বিষয়টি ধামাচামা দিতেও সে নানা রকম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। ইতিমধ্যে পাওনাদারদের বিরুদ্ধেই শিবগঞ্জ পৌরসভায় অভিযোগ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গেল ২৪ ডিসেম্বর পিন্টুর স্ত্রী রোকশানা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

 

গেল ১৬ অক্টোবর  তারিখে শিবগঞ্জ পৌর মেয়রের কাছে একটি আবেদন করেন পিন্টু। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পৌর এলাকার কুমারপাড়া গ্রামের তামসুরুদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলীর কাছে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।

 

পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য আবেদন করেন। অপরদিকে মোহাম্মদ আলী ১০ নভেম্বর তারিখে নূর আলম পিন্টুকে বিবাদী করে শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পিন্টুর কাছে তার পাওনা রয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা।

 

উভয়ের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ শুনানী শেষে শিবগঞ্জ পৌরসভার সালিশী আদালত নূর আলম পিন্টুর দায়েরকৃত অভিযোগটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক বিবেচিত করে উচ্চ আদালতে আশ্রয় নেয়ার জন্য বিবাদী মোহাম্মদ আলীকে লিখিত আদেশ প্রদান করেন।

 

সেখানে পিন্টুর নিযুক্ত স্বাক্ষী মাসুম আলী, খলিলুর রহমান, অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন, কুমারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর সাথে পিন্টুর টাকা পয়সা লেনদেন এর ঘটনা সংক্রান্তে আমাদের কিছু জানা নেই। প্রতারক পিন্টু মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ১১-১২-১৬ তারিখ সকালে মোহাম্মদ আলী ও তার দলবল নিয়ে নূর আলম পিন্টুকে অপহরণ করেছে মর্মে পিন্টুর পিতা আবদুল মকিম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।
জানাগেছে, পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ও বিবাদী পক্ষকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে নূর আলম পিন্টু নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজায়। এসময় সে গোপনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আমনুরা ও শিবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করতে থাকে।

 

গেল ২৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালত ‘খ’ অঞ্চলে পিন্টুর স্ত্রী রোকশানা বেগম পাওনাদার মোহাম্মদ আলী, আতিক, মইনুল হক ও আহাদ আলীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নূর আলম পিন্টুকে বুধবার পৌর এলাকার একটি দোকান থেকে এসআই সবুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। তাকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে প্রতারণার একাধিক তথ্য।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমারপাড়ার তামসুরুদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগে পিন্টুর বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এছাড়া চতুরপুর গ্রামের মৃত মর্ত্তুজা আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন পাচু ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাগানটুলী গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে রাশিদুজ্জামান ১৩ হাজার, দৌলতপুর গ্রামের আবদুল ওহাবের ছেলে তৌহিদুজ্জামান ২০ হাজার, সেলিমাবাদের মতিউর রহমানের ছেলে আতিক ৫৭ হাজার, চরহাসানপুরের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে আবদুল লতিফ ৪ লাখ টাকা, দক্ষিণ উজিরপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা ইমারত আলী দেড় লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে শিবগঞ্জ থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

তারা পিন্টুর কাছে টাকা পাবে বলে পিন্টু একাধিক অঙ্গীকার নামা দিয়েছেন। এছাড়াও পিন্টুর বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নম্বর ৩৩, তারিখ ১৪ জুন ১৬) রয়েছে।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ওসি রমজান আলী জানান, গ্রেফতারকৃত নূর আলম পিন্টু একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে ৮-১০টি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/অ

Print