রাজধানীতে বাসে চলাচলের দুর্ভোগ নারীর নিত্যসঙ্গী

July 3, 2016 at 1:47 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

খোদ রাজধানীতেই বাসে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারীদের। নারীদের জন্য নির্ধারিত বাসের সংখ্যা যেমন সীমিত, তেমনি সাধারণ বাসে তাদের জন্য চলাচল করা কঠিন।
সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির কর্মকর্তারাই বলছেন, শুধু নারীদের জন্য ঢাকায় ১৫টি ও চট্টগ্রামে দুটি বাস চালু করা হয়েছে। কিন্তু শুধু নারীদের জন্য চালু এসব বাসে নারীরা কম ওঠে। এ জন্য শুধু নারীদের জন্য বাস বাড়ানোর চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসে সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়মানুযায়ী বড় বাসে নয়টি এবং মিনিবাসে ছয়টি আসন নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক হলেও তা কেউ মানছে না। এ কারণে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না। কিছু বাসে ‘মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন’ লেখা থাকলেও অনেক বাসে এ লেখা দেখাই যায়নি।
১৯ জুন সকাল পৌনে ১০টায় রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসে ওঠার চেষ্টা করছিলেন এক নারী। মিরপুর থেকে একেকটি বাস আসে, আর ওই নারী হাত তুলে সেটিকে দাঁড়ানোর সংকেত দেন, কিন্তু বাস আর থামে না। কয়েকটি বাস থামলেও সেগুলোতে এত বেশি যাত্রী যে, ওই নারী চেষ্টা করেও উঠতে পারননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ওঠেন।
এ রকম চিত্র রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রাস্তায়। নারী ও যাত্রীকল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, প্রতিদিনই কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই তুলনায় নারীর জন্য বাস একেবারেই নগণ্য। এগুলো চোখেও পড়ে কম। এ ছাড়া এই বাসগুলো সকালে ও বিকেলে চলে। তাই এর সুবিধা খুব কম নারীই পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১২ নম্বরের মতো যেসব জায়গা থেকে বাস ছাড়ে, সেখান থেকে উঠলে কিছুটা স্বস্তিতে বসতে পারে নারীরা। কিন্তু বাস চলা শুরু হলে যাত্রীর সংখ্যা যেমন বাড়ে, তেমনি স্টপেজগুলোতে পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে ওঠা নারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে এই অভিজ্ঞতা হয় এক নারীর। নিজের কর্মস্থল ফার্মগেটে আসার জন্য তিনি কোনো বাসেই উঠতে পারছিলেন না। পরে অনেক চেষ্টায় তিনি ইউনাইটেড নামের একটি বাসে ওঠেন।
বিকল্প মিনি সুপার সার্ভিস নামে পল্লবী থেকে ঢাকেশ্বরী রোডের একটি বাসে উঠে দেখা যায়, নারীদের জন্য সংরক্ষিত দুটি সিটে দুজন পুরুষ যাত্রী বসা। শিশু কোলে নিয়ে এক নারী যাত্রী উঠলেও ওই দুই পুরুষ সিট ছাড়েননি। কিছুক্ষণের মধ্যে আরও দুই নারী উঠলে তাঁদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। নারীদের সিটে পুরুষ কেন? এ বিষয়ে বাসের সহকারীকে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি। এই বাসের ইঞ্জিনের ওপরে গরম বনেট। তার ওপর নারীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশির ভাগ বাসের একই চিত্র।
মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মতিঝিলগামী ’৭১ পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসে উঠে দেখা গেল সেটিতে মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের কথা কোথাও লেখা নেই। বাসের সহকারী মামুন জানালেন, এই বাসে সেই ব্যবস্থা নেই।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পুরুষ যাত্রীদেরই বাসে উঠতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেখানে নারীদের কষ্ট তো স্বাভাবিকভাবেই বেশি। এক কথায় বললে, নারীরা অমানবিক পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে চড়েন। তাঁর অভিযোগ, সমস্যাটি চিহ্নিত হলেও সমস্যা সমাধানে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই।
নারীদের বাস চোখে পড়ে না: বিআরটিসি জানায়, শুধু নারীদের জন্য ঢাকার বিভিন্ন রুটে ১৫টি বাস চলে। কিন্তু রাস্তায় এসব বাস চোখে পড়ে কম। বিআরটিসির মিরপুরের ১২ নম্বরের ডিপোতে গিয়ে জানা গেল, সেখান থেকে মতিঝিল অভিমুখে মাত্র একটি বাস চলে নারীদের জন্য। তা-ও সেটি সকাল সাড়ে সাতটায় ছেড়ে যায়। আবার বিকেলে ফেরে। কম-বেশি অন্যান্য রুটের চিত্রও একই রকম। এর ফলে এসব বাসে সব পর্যায়ের নারীদের চলাচলের সুযোগ নেই।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, শুধু নারীদের জন্য চালু বাসে নারী কম ওঠে। এর বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ নারীর সঙ্গে পুরুষ থাকে। তাই শুধু নারীদের জন্য বাস বাড়ানোর চিন্তাও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

সূত্র: প্রথম আলো

Print