ওয়েস্টিনে দুই হাজার ডলারের প্রেসিডেন্টশিয়াল স্যুইট বরাদ্দ ছিল পাপিয়ার

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

গুলশানের ঢাকা ওয়েস্টিন হোটেলের ২২ তলায় সবচেয়ে বিলাসবহুল প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইটটি ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া। চার বেডরুমের ওই স্যুইটের প্রতিরাতের ভাড়া সাধারণভাবে দুই হাজার ডলারের মত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাপিয়া তার অতিথিদের প্রথমে নিয়ে যেতেন ওয়েস্টিনের লবিতে। পরে লাঞ্চ বা ডিনার শেষে সেখান থেকে নিয়ে যেতেন তার নামে বরাদ্দকৃত বিলাসবহুল প্রেসিডেনসিয়াল স্যুইটে।

২৩ তলাবিশিষ্ট ঢাকা ওয়েস্টিন হোটেলের লেভেল-২২ এ ১ হাজার ৪১১ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিলাসবহুল প্রেসিডেনসিয়াল স্যুইট। সেখানে অতিথিদের সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বৈঠক করতেন পাপিয়া।

এরপর পছন্দসই তরুণীকে নিয়ে গোপন কক্ষে প্রবেশ করতেন ভিআইপিরা।

বুধবার বিকালে বিমানবন্দর থানার ওসি বিএম ফরমান আলী  বলেন, রাজধানীর বিমানবন্দর থানার এক মামলার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে তদন্ত কর্মকর্তাদের নানা তথ্য দিয়েছেন পাপিয়া। আমরা যেসব তথ্য পাচ্ছি তাতে অবাক হচ্ছি। যাচাই করা ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।

তিনি বলেন, পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গে হোটেলের কে কে জড়িত ছিল, তার অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসার পার্টনারই বা কারা ছিল, তার সঙ্গে পাওয়া জাল টাকার উৎসই বা কি, কাদের আশ্রয়-প্রশয়ে তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন- সব বিষয়েই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের প্রতারণার শিকার কয়েক ব্যক্তি থানায় এসে আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে গেছেন। আমরা সবকিছুই তদন্ত করছি। এই মুহূর্তে অনেক তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

ওসি বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী এবং দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা ও জাল টাকার মামলা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের পৃথক মামলা হয়েছে শেরেবাংলানগর থানায়। নরসিংদীতে আরও একটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর থানার একটি এবং শেরেবাংলানগর থানার ২ টি মামলায় ৫ দিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, মামলাটি এখন থানা পুলিশ তদন্ত করছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে তদন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর র‌্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করবে।

তিনি জানান, পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। হোটেল ওয়েস্টিনের কেউ পাপিয়ার অনৈতিক কাজে জড়িত ছিল কিনা সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাবে। তিনি বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী অস্ত্র, জাল টাকা এবং ইয়াবা ব্যববসায় জড়িত বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, পাপিয়া দম্পতি প্রচুর পরিমাণে মাদক দ্রব্য সেবন করতেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ভিআইপিদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জন্য বিদেশি তরুণীদের ব্যবহারের বিষয়ে যে তথ্য এসেছে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে পাপিয়া যে সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে যৌন ব্যবসা চালাতেন সে বিষয়টি এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।