রাজশাহীতে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিয়ে এসেছে অ্যামিগোজের “সি ফুড প্লেটার”

ফাতেমা বিনতে করিম

কক্সবাজারের সি ফুড বা সামুদ্রিক মাছের স্বাদের কথা আমরা কে না শুনেছি! তবে সেই স্বাদ যদি পাওয়া যায় রাজশাহীতে তবে আনন্দের সীমা থাকে না।

“অ্যামিগোজ” রেস্টুরেন্ট কক্সবাজারের সেই সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছের স্বাদ রাজশাহীর মানুষের কাছে পৌছে দিতে শুরু থেকে তারা নিয়ে এসেছে স্পেশাল “সি ফুড প্লেটার”।

এই “সি ফুড প্লেটার” এ আছে ক্র্যাব, স্কুইড, ভ্যাটকি, চিংড়ি এবং স্বাদের ভিন্নতা আনার জন্য কিছু ভেজিটেবল আইটেমও দেওয়া হয়। প্লেটারটির দাম ৫৫০ টাকা। প্রতিদিন এই সি ফুড আইটেমগুলো খাওয়ার জন্য ৫০ জনেরও উর্ধ্বে মানুষ আসে নগরীর এই অ্যামিগোজ রেস্টুরেন্টে।

এছাড়াও ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকার মধ্যে সি ফুডের আরও অন্যান্য আইটেমও পছন্দ করে থাকে গ্রাহকরা। এর মধ্যে আছে ফ্রাইড ক্র্যাব, লবস্টার চিলি পেস্ট, পমফ্রেট সুইট এন্ড সর, ফ্রাইড স্কুয়াড এছাড়াও আারও অনেক আইটেম।

সি ফুড আইটেমটা মুলত বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাহকরা খেতে আসে অ্যামিগোজে। সব থেকে বেশি কলেজ, ইউনিভার্সিটির তরুন তরুনীরা সি ফুড আইটেমগুলো খেতে হানা দেয় এখানে। প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর ঢাকাতে আসা কক্সবাজারের ফ্রেশ সামুদ্রিক মাছগুলো নিয়ে আসা হয় এই আইটেমগুলো তৈরী করার জন্য।

অ্যামিগোজের তিনজন উদ্যোক্তা শাহরিয়ার শুভ, রকনুজ্জামান রেজা ও রায়হান পারভেজ রনির উদ্যোগে তরুনদের পছন্দকে নজরে রেখে রাজশাহীতে সর্ব প্রথম সি ফুডের এমন ভিন্ন ভিন্ন আইটেম নিয়ে আসা হয় অ্যামিগোজ রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে।

অ্যামিগোজের তিনজনের একজন উদ্যোক্তা শাহরিয়ার শুভ বলেন, সি-ফুড কে ব্যানার করেই এ্যামিগোজের পথ চলার শুরু। ভ্যারাইটিজ সি-ফুডের আইটেম নিয়ে রাজশাহীতে এ্যামিগোজই প্রথম রেস্টুরেন্ট। স্কুউইড, ক্র‍্যাব, লবস্টার, কোরাল আর রুপচাঁদার মত জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্যময় রেসিপি দিয়ে সাজানো এই রেস্টুরেন্টের মেনু। আর তাদের সুদক্ষ সেফের হাতের কারিশমা ভোজনরসিকদের মুগ্ধ করবেই।

আরও একজন উদ্যোক্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, “সবাই কক্সবাজার যেতে পারেনা। সি ফুডগুলো সব যায়গায় পাওয়া যায়না। রাজশাহীতে বসে কক্সবাজারের সব ধরনের সি ফুডের স্বাদ পাচ্ছে সকলে। অনেকের আগ্রহ থাকে স্কুইড বা অক্টোপাস দেখতে কেমন খাইতে কেমন। সকলের আগ্রহকে নজরে রেখেই সি ফুড আইটেমটা করা হয়েছে।”

খাবারের প্রসঙ্গ আসলে অবশ্যই শেফের কথাটা মাথায় আসবেই। তাই সিল্কসিটি নিউজ সি ফুড আইটেমের শেফ শামিমের কাছে এই খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অন্যান্য খাবারের থেকে এই খাবারের প্রতি কাস্টমারদের আগ্রহ বেশি। সি ফুডের অর্ডার নেওয়ার পরে তৈরী করতে সর্বচ্চ ৩০ মিনিট সময় নেওয়া হয়। সি ফুড আাইটেমটা কিছুটা স্পাইসি আর ক্রিসপি করা হয়।”

অ্যামিগোজে আসা খাবার প্রেমিদের কাছে জানতে চাইলে একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুনী সানজানা নাওয়ার বলেন, আমি প্রায় অ্যামিগোজে আসি। কারণ, এখানকার প্রতিটা খাবার ফ্রেশ এবং সুস্বাদু। আমার কাছে “সি ফুড প্লেটার” আইটেমটা অনেক বেশি ভালো লাগে। রাজশাহীতে বসে সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার মজাই আলাদা।

প্রতিদিন এক রকমের খাবার খেতে প্রায় সকলেই অপছন্দ করে। তাই খাবারের ভিন্নতা খুজতে খাবার প্রেমিরা ছুটে আসে রেস্টুরেন্টগুলোতে। ঠিক অ্যামিগোজের ভিন্ন আইটেম হলো “সি ফুড” আইটেম।

আরেকজন অ্যামিগোজে আসা খাবার প্রেমি খন্দকার আশিকুর রহমান বলেন, “বিভিন্ন নতুন খাবারের স্বাদ নিতে আমি ভালবাসি। অ্যামিগোজের “সি ফুড প্লেটার” আমি খেয়ে অনেক মজা পেয়েছি। এই প্লেটারে কয়েক রকমের সামুদ্রিক মাছ থাকে যা অনেক সুস্বাদু।”

রাজশাহী রানীবাজার মোড় থেকে কিছুটা ভিতরে গেলেই খুজে পাবেন “অ্যামিগোজ রেস্টুরেন্ট”। কয়েক রকমের সামুদ্রিক মাছের আইটেম খেতে প্রতিনিয়ত আসছে এখানে খাবার প্রেমিরা।

স/অ