জমা দেওয়া গেটপাশের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না রোগীর স্বজনরা

রামেক হাসপাতাল:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গেটপাশের নামে ফেরতযোগ্য ১০০ টাকা স্লিপ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। ফলে জামানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না রোগীর স্বজনরা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রোগীর স্বজনদের মাঝে। বিশেষ করে গরিব রোগীদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা।

গত ১১ ফ্রেবুয়ারি থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে দু’জন করে স্বজন (দর্শনার্থী) প্রবেশ করতে পারবেন। এর জন্য ১০০ টাকা করে জমা দিয়ে গেট পাশ নিতে হবে। পরে রোগীর ছাড়পত্র দেখিয়ে সেই টাকা ফেরত নেওয়া যাবে। কিন্তু এই টাকা ফেরত দিচ্ছেন না টিকিট কাউন্টারের কর্মচারীরা।
গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আনসার সদস্যরা ১০০ টাকার জামানত সিল্প ছাড়া (গেটপাশ) রোগীর সঙ্গে তাদের স্বজনদের বা রোগীকে দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এই সিল্প রোগীকে জরুরী বিভাগের ভর্তি করার সময় বাড়তি ১০০ টাকা করে জমা দিয়ে (ফেরতযোগ্য জামানত) সংগ্রহ করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এরপর রোগীর সঙ্গে তার দু’জন করে অভিভাবককে যেতে দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের ভিতরে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগীর স্বজন আমেনা বেগম অভিযোগ করে জানান, তাঁর বাড়ি নগরীর আলুপট্টির এলাকায়। তিনি ৩০০ টাকা দিয়ে তিনটি গেট পাস সংগ্রহ করেন। যেন প্রতিটি গেটপাশে দু’জন করে যেতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে গেলে সেই স্লিপ জমা নিয়েছেন আনসার সদস্যরা। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে ওষুধ কেনার জন্য বের হয়ে আর তাঁকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না সিল্প নাই বলে। এমনবি আগের জমা দেওয়া স্লিপের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না। তাৎক্ষণিক আমেনা বেগম ঘটনাস্থলে চেঁচামেচি শুরু করে দেন।

কুদ্দুস আলি নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তিনি জামানত হিসাবে ১০০ টাাকা দিয়ে একটি গেটপাশ সংগ্রহ করেন। কিন্তু প্রধান ফটকের কাছে যেতেই দুজনের বেশি তিনজন যেতে পারবে না বলে আনসার সদস্যরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তারপর থেকে প্রায় ৩ ঘন্টা সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন কুদ্দুস। কিন্তু রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় গেটপাশ নিয়ে আর ফেরত দেয়নি আনসার সদস্যরা। ফলে অন্য স্বজনরাও আর বের হয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। পরে নতুন করে আবার ভিতরে যেতে পারেন তাঁরা। অথচ তাঁদের রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু রোগীর পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ পাওয়া তো দূরের কথা, গেটপাশের ঝামেলা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে তাঁদের।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এভাবে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন আনসার সদস্যরা। স্বজনদের জমা দেওয়া জামানতের স্লিপ প্রতারণা করে নিয়ে সেই টাকা তুলে নিচ্ছে আনসার সদস্যরা।
রামেক হাসপাতালের আনসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হাসপাতালে নতুন নিয়ম কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চালু হয়েছে। তবে রোগীর স্বজনদের নিকট থেকে কেউ যদি গেটপাশের স্লিপ নিয়ে টাকা আত্মসাত করে থাকে, তাহলে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামেক হাসপাতালের উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রোগীর ভালোর জন্য এমন নিয়ম করেছি। যাতে অতিরিক্ত মানুষ হাসপাতালে ভিড় করতে না পারে। আবার বহিরাগত কেউ ভিতরে গিয়ে ঝামেলা তৈরী করতে না পারে। তবে ফেরতযোগ্য জামানতের টাকা নিয়ে কোনো অনিয়ম কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print