চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দেশের চা শিল্পের ইতিহাসে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। ২০১৯ সালে উৎপাদিত হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা। গত বছরের চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ কেজি।

আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ চা বোর্ডের (বিটিবি) পক্ষ থেকে সম্প্রতি এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রেকর্ড চা উৎপাদনের পরও দেশের এ শিল্প চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ও চোরাইপথে আসা ভারতের নিুমানের চা পাতা দেশীয় বাজারের জন্য চরম হুমকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি চায়ের মূল্য একেবারে কমে যাওয়ায় এ খাতে সংকট কাটছে না।

বিটিবি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি- যা ছিল দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৮ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেকর্ড উৎপাদনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি আর ভারতীয় নিুমানের চা অবাধে দেশে প্রবেশ করায় চায়ের মূল্য গত বছরের চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১৮ সালে চায়ের কেজি নিলামে গড়মূল্য ছিল ২৬০ টাকা।

২০১৯ সালে কমে এসে তা দাঁড়ায় ১৬০ টাকায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১২০ টাকা কেজি হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে ২০১৯ সালে উৎপাদিত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ চা এখনও বাগানে পড়ে আছে।

ক্রেতার অভাবে এ চা নিলামে পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদনে রেকর্ড হলেও মূল্যের দিক থেকে চা শিল্প চরম সংকটে। গত বছর উৎপাদিত চায়ের প্রতি কেজিতে বাগান কর্তৃপক্ষকে লোকসান গুনতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা।

চায়ের উৎপাদনে শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটলেও চায়ের মূল্যের কারণে তাদের এ হাসি মলিন হয়ে যায়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের (বিটিবি) উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মুনির আহমদ বলেন, চায়ে সর্বকালের রেকর্ড করল বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে ৯৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।

বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোটবড় মিলিয়ে বাংলাদেশে ১৬২টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৯২টি মৌলভীবাজারে।

শ্রীমঙ্গল জেমস ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া ডিভিশনের জিএম ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, ‘চায়ের উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।

ভারত থেকে নিুমানের চা চোরাইপথে বাংলাদেশে আসছে- যা অত্যন্ত নিুমানের খাওয়ার যোগ্য নয়। এতে বাজারে চায়ের কোয়ালিটি খারাপ করছে। এতে চা মালিকরা মূল্য ঠিকমতো পাচ্ছেন না।

ভারত থেকে নিুমানের আমদানি ও চোরাইপথে আসা চা পাতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশীয় চায়ের মূল্য থাকবে না।’

লস্করপুর ভ্যালীতেও রেকর্ড উৎপাদন : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ভ্যালীতেও চা উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে।

এখানকার ১৭টি চা বাগানে ২০১৯ সলে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৫ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে- যা গত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৬ সালে ভ্যালীর এসব বাগানে ১ কোটি ২২ লাখ কেজি রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়।

বাগান ও ভ্যালী সূত্র জানায়, চা বাগান ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, চলতি বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় এবং রোগবালাই কম থাকার কারণে গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে উপজেলার লস্করপুরের ভ্যালীতে রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। ২০১৮ সালে উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৮ কেজি।

চলতি বছর এ সময়ে ভ্যালীতে উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৫ কেজি চা- যা গত বছরের চেয়ে ১৭ লাখ ২০ হাজার ২৭৭ কেজি বেশি। ২০১৬ সালে ভ্যালীতে উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ২২ লাখ কেজি চা- যা ছিল ভ্যালীর সর্বোচ্চ উৎপাদন। ২০১৮ সালে এ উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ কেজিতে।

Print