বিমানে অনিয়ম ঠেকাতে ১২ পদক্ষেপ

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ বিমানের অনিয়ম ঠেকাতে ১২ পদক্ষেপের কথা সংসদে তুলে ধরেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। মোরশেদ আলম মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, বাংলাদেশ বিমানের সব ধরনের অনিয়ম রোধে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিমানের অনিয়ম ঠেকাতে সরকার নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করেছে। এগুলো হল- টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সিট ব্লকিং পদ্ধতি বাতিল, নিয়োগ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনয়ন, আরএফআইডি মেশিনের মাধ্যমে হাজিরা, ই-টিকিটিং পদ্ধতি, লাগেজ হ্যান্ডেলিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, পেনশন সহজীকরণ, হজ অ্যাপস চালু, ওয়েবসাইট এবং অনলাইনে টিকিট বুকিং, মোবাইল অ্যাপস চালু, ই-জিপি টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তালিকাভুক্তিকরণ ও ইঞ্জিন মেইনটেনেন্স পাওয়ার বাই হাওয়ার।

তিনি বলেন, বিমান ইতিমধ্যে সিট বুকিং পদ্ধতি বাতিল করেছে। ফলে টিকিট বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে। আর ইতিমধ্যে বিমানে নিয়োগ পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন অনলাইনে গ্রহণ ও টেলিটকের সহযোগিতায় আবেদন বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া শারীরিক ফিটনেস, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যক্রম শেষ করা হচ্ছে।

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরএফআইডি মেশিনে হাজিরা গ্রহণের মাধ্যমে বিমানের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ফেস আইডি মেশিনের মাধ্যমে প্রাপ্ত হাজিরা শতভাগ অনুসরণ করে ওয়াকল সিস্টেমে হাজিরা প্রেরণ করা হয়।

তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৭ সালের ৪ মার্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশের সব অফিস থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের জন্য ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু করেছে। ২০১৩ সাল থেকে হজযাত্রীদের এবং ২০১৪ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য ই-টিকিট চালু করা হয়েছে। ই-টিকিট পদ্ধতিকে আরও কার্যকরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাহবুব আলী বলেন, যাত্রা শেষে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ব্যাগেজ পেতে আগে যাত্রীদের সময় লাগত আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ব্যাগেজ এরিয়া ইউনিটির মাধ্যমে কেপিআই নির্ধারণের ফলে প্রথম ব্যাগেজ ১৮ মিনিট ও শেষ লাগেজ ৬০ মিনিটে দেয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি কর্মী উৎপাদনশীলতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের হার ৯৮ শতাংশ।