অন্তঃসত্ত্বার স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রযুক্তি

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ নিয়ে কার্যক্রম চলছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরিদর্শন শেষে কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি। উপজেলায় ২০১৭ সাল থেকে মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।

মন্ত্রী পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গেও কথা বলেন। পরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করেন স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের জন্য উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম দুটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেন। তার একটি হলো ‘অন্তঃসত্ত্বার আয়না’ ও অপরটি ‘অন্তঃসত্ত্বার গয়না’। এ দুটি কার্যক্রমকে একটি সফটওয়্যারের আওতায় এনে পরিচালনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ৩৭টি তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে। উদ্ভাবিত এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা তাঁদের করণীয় সম্পর্কে সঠিক সময়ে জানতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর তথ্য সফটওয়্যারে যুক্ত হলে তিনি তাঁর গর্ভধারণকালীন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার তিন দিন আগে এসএমএস ও ভয়েসকলের মাধ্যমে জানতে পারেন। যুক্ত হওয়ার পর প্রত্যেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর আলাদা আইডি তৈরি হয়। এই আইডির বিপরীতে প্রত্যেককে ‘অন্তঃসত্ত্বার গয়না’ নামের স্বাস্থ্য কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়। এই কার্ড গর্ভধারণকালের নির্দেশিকা (গাইডলাইন) হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্য কার্ডে প্রসব-পরবর্তী ও প্রসব-পূর্ববর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজ ভাষায় ও চিত্রের মাধ্যমে তথ্য দেওয়া থাকে।

এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে একজন গর্ভধারিণী মা প্রসবের ছয় মাস আগেই তাঁর বাড়ির আশপাশের রক্তদাতা সম্পর্কে জানতে পারেন। সফটওয়্যারটিতে আশপাশের রক্তদাতাদের তথ্য সংযুক্ত থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে। ফলে মায়েরা প্রসবের আগেই তৈরি থাকতে পারেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন বলেন, ‘পুরো কাপাসিয়া উপজেলাকে মাতৃমৃত্যুমুক্ত করে গড়ে তুলতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, মায়েদের সচেতন করতে তিনি নিজেই মাঝেমধ্যে ফোন করে খবর নেন। তা ছাড়া সফটওয়্যার থেকে কল করার সময় সাংসদের নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় প্রসূতিদের। তিনি জানান, কাপাসিয়া হাসপাতালে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কর্নার তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মা ও শিশু খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে সেবা নিতে পারেন। সাংসদ বলেন, প্রসূতি মায়েদের জরুরি প্রয়োজনে রক্তের দরকার হয়। সে জন্য কাপাসিয়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে রক্তদাতাদের পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে ১১টি ইউনিয়নের মোট ৩৩টি মোটরসাইকেলকে স্টিকার দেওয়া হয়েছে। এই মোটরসাইকেলগুলোর মাধ্যমে রক্তদাতাদের হাসপাতালে পরিবহন করছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে ফান্ড গঠন করা হয়েছে। পুরো উপজেলার সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন থেকে দৈনিক ১ টাকা করে কেটে নিয়ে সে ফান্ডে জমা করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে জনবল–সংকটের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, হাসপাতালের এ কার্যক্রমটি প্রশংসনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক। তিনি জানান, সেবার মান বাড়াতে জনবল–সংকট দূর করার ব্যবস্থা করা হবে। দায়িত্ববোধ সচেতন হয়ে এ কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ইউসুফ হারুন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আ খ ম মহিউল ইসলাম।

Print