ফিক্সিং টোপ এবারের বিপিএলেও

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বিপিএলের সঙ্গে বিতর্ক না থাকলে বোধহয় জমে না। বঙ্গবন্ধু বিপিএলও মাঠে গড়িয়েছে বিতর্ক মাথায় নিয়েই। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দুটি দলের স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব সন্দেহে রিপোর্ট হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের (এসিইউ) কাছে। আর রিপোর্ট করেছে বিদেশি ক্রিকেটার সরবরাহকারী পৃথক দুটি এজেন্ট।

একটি দলের স্পন্সরদের পক্ষ থেকে সরাসরি শ্রীলংকান একজন ক্রিকেটারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি স্পন্সরের পক্ষ থেকে এজেন্টকে বলা হয়েছিল খেলোয়াড়দের অনৈতিক কাজে রাজি করাতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ক্রিকেটারদের প্লেয়ার্স ড্রাফটের বাইরে থেকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পারিশ্রমিক নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে শ্রীলংকান ক্রিকেটারকে তৃতীয় পক্ষের নির্দেশ মেনে খেলার শর্ত জুড়ে দিলে এজেন্টের মাধ্যমে তিনি আইসিসিকে রিপোর্ট করেন। এ ঘটনা এসিইউ জানায় বিসিবি অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা মেজর (অব.) আবু মোহাম্মদ হুমায়ুন মোর্শেদকে।

এ নিয়ে সমকালের পক্ষ থেকে আইসিসি এসিইউতে যোগাযোগ করা হলে এক কর্মকর্তা বলেন, বিপিএল বিসিবির টুর্নামেন্ট, আর ঘটনাটি বিসিবি অ্যান্টিকরাপশন দেখছে। বিসিবির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

বিসিবি অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তারা আইসিসিতে রিপোর্ট হওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে নিশ্চিত করেন। কৌশলগত কারণে অফিসিয়াল বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা। তবে বিসিবি অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘এর ফল অবশ্যই দেখতে পাবেন। একটা কিছু অবশ্যই হবে।’ ওই কর্মকর্তা যোগ করেন, শুধু বিদেশি নয়, দেশি ক্রিকেটারদেরও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়াতে টোপ দেওয়া হয়েছিল।

বিসিবি অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের কাছে রিপোর্ট আছে, চট্টগ্রামের দু’জন ক্রিকেটারকে অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার শর্তে রাজশাহী দলে খেলার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন স্থানীয় ক্রিকেট সংগঠক শাকিল আবেদীন। ভারতীয় একজনের সঙ্গে ফোনে কথাও বলিয়েও দেওয়া হয়েছিল ওই দুই ক্রিকেটারকে। জাতীয় দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটার এ ঘটনা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী ও বিসিবির অ্যান্টিকরাপশন প্রধান মোর্শেদকে জানান। তার পরামর্শে চট্টগ্রামের উদীয়মান ওই দুই ক্রিকেটার ঢাকায় এসে মোর্শেদের কাছে রিপোর্ট করেন। তবে শাকিল আবেদীন সমকালের কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব সন্দেহে তিনটি পৃথক রিপোর্টের ঘটনায় বিসিবিও সতর্ক হয়। এ কারণে প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা যুক্ত করে বিসিবি। এর পরও আইসিসিতে রিপোর্ট হওয়া দুই স্পন্সরের ওপর থেকে সন্দেহ যায়নি। বরং টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে সিলেট থান্ডারের জ্যামাইকান পেসার ক্রিসমার সানতোকির একটি বিশাল ওয়াইড এবং নো বল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোদ সিলেটের টিম ডিরেক্টর বিসিবি পরিচালক তানজিল চৌধুরী এই প্রশ্ন তুলেছেন। বিসিবি সিইও এবং এসিইউ প্রধানকে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এই সানতোকি প্লেয়ার ড্রাফটের বাইরের ক্রিকেটার। সিলেটের স্পন্সর নিজেদের উদ্যোগে তাকে দলে ভিড়িয়েছে।

বঙ্গবন্ধু বিপিএল ২০১৯ প্লেয়ার্স ড্রাফটের টেবিলেই সিলেটের স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবি পরিচালক তানজিল চৌধুরী ও কোচিং ডিরেক্টর সারওয়ার ইমরানের সঙ্গে খেলোয়াড় পছন্দ করা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিসিবির আরেক পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন জানান, সিলেটের স্পন্সরপ্রধান তানজিলকে সোজাসাপ্টা বলেছিলেন, ‘আমরা টাকা খরচ করব, কাকে নেব না নেব, সেটা আমাদের ব্যাপার। আপনি বলার কে? আমরা যেভাবে খুশি দল বানাব।’

সিলেটের টিম ডিরেক্টর তানজিল পরে বিসিবি সভাপতি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কর্মকর্তাদের ঘটনাটি লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে সিলেটের স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তো অভিযোগ আসা বন্ধ হয়নি; বরং আইসিসি পর্যন্ত গড়িয়েছে ক্রিকেটারদের স্পট ফিক্সিং প্রস্তাব সন্দেহের অভিযোগ।

Print