খালেদা জিয়া এমন কোনো অসুস্থ নন: আইনমন্ত্রী

সিল্কসিটিনিনিউজ ডেস্ক:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়া এমন কোনো অসুস্থ নন যে, তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। তাই তাঁদের (বিএনপির আইনজীবী) আবেদন নাকচ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তিনি বলেন, ‘এখন উনারা (বিএনপি) লাফালাফি শুরু করেছেন যে এটা ঠিক হয়নি। উনাদের কথা হচ্ছে, যা কিছুই বলবেন, তালগাছটা আমার।’

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদের অদূরে মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধনের পর আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের সময় খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, তাঁদের (বিএনপি) বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সব কাগজপত্র দেখার পর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এখানে বিতর্কের কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু তারা (বিএনপি) এখন নিজেদের দলে নিজেদের নেতৃত্ব বজায় রাখার জন্য ‘আজেবাজে’ বলছেন।

বাংলাদেশে ভয়ংকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন জামায়াত ইসলামের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তাঁর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁরা চাইছেন বাংলাদেশে একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি হোক। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের কথা মনে আছে। জনগণ সেই দুঃশাসনের দিকে ফিরে যেতে চায় না। আর দেশে কোনোমতেই সেই পরিস্থিতি নেই।

মডেল মসজিদ উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া টাকা চুরি করে জেলে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সব পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য ও যুক্তিতর্ক শুনে এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসকদের মেডিকেল প্রতিবেদন দেখে বলেছেন, তাঁকে জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি এমন কোনো অসুস্থ নন যে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। সেই জন্যই তাঁকে জামিন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই তাঁদের আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

আনিসুল হক বলেন, যে রায়, যে আদেশ, যে নির্দেশ উনাদের পক্ষে যাবে, সেটা অন্যায় হলেও আর মানুষকে পিষে ফেলার হলেও ভালো। উনারা খুশি। বিপক্ষে যখন কিছু বলা হয়, তখন তাঁরা বলেন তাঁদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আর একজন আছেন, রিজভী, আমি বুঝি না। তিনি অফিস থেকে বের হন না। খালি টেলিভিশনে বিবৃতি দেন।’

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের আপনারা নেতা মানেন, তাঁরা এতিমের টাকা মারেন, তাঁরা মানুষ মারেন। তাঁদের বাদ দিয়ে রাজনীতি করেন। কই এই সাহস তো নাই।’

বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলকে দুঃশাসন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি-জামায়াত) ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যা সৃষ্টি করেছিল, সেখানে ফিরে যেতে বাংলাদেশকে আর দেব না। আমরা এখন অন্য রেল গাড়িতে উঠে গেছি।’

আনিসুল হক বলেন, এই বাংলাদেশকে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি-জামায়াতের দোসররা একটা ভিক্ষুকের দেশে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। এ দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে, বিএনপির ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের লুটপাটের অবস্থান থেকে বিশ্বের অত্যন্ত পাঁচটি উন্নয়নশীল ও উন্নত হচ্ছে এমন একটি দেশে বাংলাদেশকে পরিণত করেছেন শেখ হাসিনা। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই বিএনপি-জামায়াত, বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।

আখাউড়া মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতিয়া আহমেদ, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা, কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউসার ভূঁইয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমীর চক্রবর্তী।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন বলেন, আখাউড়া উপজেলায় ৪১ শতক জায়গায় ১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।

Print