ভারত মুসলিমদের জন্য নয়: ইলতিজা জাভেদ

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ভারতে মুসলিম ছাড়া অন্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে আনা বিলের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

গৃহবন্দি এই পিডিপি নেত্রী টুইট করেছিলেন- ‘মুসলিমদের তাহলে কোনো দেশ নেই!’

এবার সংসদে সেই বিলের অনুমোদন দেয়ার পর কড়া সমালোচনা করেছেন মেহবুবা মুফতির মেয়ে সানা ইলতিজা জাভেদ।

ওই আইনটির মাধ্যমে বিজেপি সরকার মুসলিমদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গত বুধবার ওই খসড়া বিলে অনুমোদন দেয়ার পর এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ভারত তাহলে মুসলমানদের জন্য নয়।’

বুধবার সকালে ওই বিলে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মোদির মন্ত্রিসভা। তারপরই দুপুরে তা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক নানান কথা।

নাগরিকত্ব সংশোধন বিলে বলা হয়েছে- পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, পারসি ও শিখ শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে দেশটির সংসদে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল (ক্যাব)’ নামের এ বিলটি গৃহীত হতে পারে।

বিলে মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা নেই বলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইলতিজা জাভেদ।

অবশ্য এটাই প্রথম নয়; কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে নানা সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে ইলতিজা অনেকবার টুইট করেছেন। এর আগেও ৩৭০ ধারা বিলোপ করে কাশ্মীরকে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে পরিণত করার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি ।

ওই সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘ভারত সরকারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও অশুভ। তারা দেশের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্যের জনতত্ত্ব বদলে নিতে চায়। মুসলমানদের শক্তি তারা এতটাই খর্ব করে দিতে চায়, যাতে তারা নিজেদের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে থাকতে বাধ্য হয়।’

শুধু মেহবুবা আর তার কন্যা ইলতিজাই নয়: সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের বিরোধিতা করেছেন।

তিনি বলেছেন, সরকার যে সংশোধন বিল সংসদে পেশ করতে চলেছে তাতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে; যা অসাংবিধানিক। সিপিএম এ বিলের বিরোধিতা করবে।

এছাড়াও ভারতীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহরাও হয়তো চাইছেন এ নিয়ে সংঘাত হোক। কারণ বিলকে সামনে রেখে ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটানোও বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, এর আগেও একবার সংসদে এ বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে ওই সময় বিলটি পাস করাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তখন আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে বিলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল।

Print