দুর্গাপুরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি :

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সদরে ইসলামী ব্যাংক বানেশ্বর শাখার শাখা ব্যবস্থাপককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঋণ খেলাপী দুই ভাই মিলে রেজাউল ইসলাম নামের ওই কর্মকর্তাকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে লাঞ্ছিত করেন। এঁদের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর নূরুজ্জামান লিটন এবং অপরজন তাঁর মেজো ভাই নূরুল ইসলাম। এ ঘটনায় দুগাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ইসলামী ব্যাংক বানেশ্বর শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ব্যাক কর্মকর্তা রেজাউল করিম দুর্গাপুরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে বের হওয়ামাত্র নূরুজ্জামান লিটন এবং নূরুল ইসলাম তাঁকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তাঁকে লাঞ্চিত করেন দুই ভাই। এসময় স্থানীয়রা এসে ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। পরে রেজাউল করিম থানায় গিয়ে তাঁকে লাঞ্চিত করা হয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

গতকাল বিকেলে রেজাউল করিম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে দুর্গাপুরের প্রয়াত ব্যবসায়ী নূরুন নবী ৩৭ শতাংশ জমি বন্ধক রেখে নিগার পটেটো টিস্যু কালচার প্রকল্পের নামে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন পুঠিয়ার বানেশ্বরে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বানেশ্বর শাখা থেকে। এই ঋণের জামিনদার হলেন তাঁর দুই ভাই নূরুল ইসলাম ও নূরুজ্জামান লিটন। কিন্তু কয়েক বছর আগে নূরুন্নবী মারা যান। এরপর আর ঋণটি তাঁদের দুই ভাই পরিশোধ না করে ওই সম্পত্তি ভোগ-দখল করে আসছেন। এমনকি তাঁরা গোপনে বন্ধক রাখা ৩৭ শতাংশ জমির মধ্যে ১৭ শতাংশ জমি নিজেদের নামে নামজারি করার চেষ্টা করছেন। এখানেও নূরুন্নবীর এক ছেলেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে যেহেতু ব্যাংকের কাছে ওই সম্পত্তিটি বন্ধক আছে, কাজেই নামজারির করার চেষ্টার বিষয়টি জানতে পাওয়ার পর ব্যাংক থেকে তাতে আপত্তি জানানো হয়। ওই আপত্তির শুনানী ছিলো গতকাল দুপুরে। দুর্গাপুর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে আপত্তি শুনানী শেষে তিনি বের হওয়ামাত্রই তাঁকে লাঞ্চিত করেন নূরুল ইসলাম ও নূরুজ্জামান লিটন।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ভাইয়ের নামে ঋণ হলেও তিনি মারা যাওয়ার কারণে এখন জামিনদার হিসেবে এবং সম্পত্তির মালিক হিসেবে দুই ভাই ঋণ খেলাপী। কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধ না করে তাঁরা দুই ভাই নানা টালবাহানা করছেন। এরই মধ্যে ব্যাংকে বন্ধক রাখা সম্পত্তিও আত্মসাত করতে তাঁরা গোপনে ওই জমির কিছু অংশ নামজারি করার চেষ্টা করছেন। এটি তারা আইনগতভাবে করতে পারেন না।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে যোগযোগ করা হলে নূরুল ইসলাম ও নূরুজ্জামানের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে দুর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানু কনা বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্চিতের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

স/রি

Print