চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায়, ভেস্তে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

December 2, 2019 at 9:34 pm
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
বরেন্দ্র ভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কৃষকের আমন ধান কেটে বাড়িতে উঠলেও ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে কম হওয়ায় কৃষকের সোনালী স্বপ যেন ভেস্তে যাচ্ছে। ধান উৎপাদনে খরচের তুলনায় বর্তমান বাজার মূল্য অনেক কমমুল্য হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা  হয়ে  পড়েছে।
কৃষকের জমিতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য সামগ্রী বাঁকীতে নেওয়ায় মহাজনেরা কয়েক দিনের মধ্যেই পাওনা আদায়ের জন্য (মৌসুমী হালখাতার) চিঠি দিবেন বলে সকল প্রস্তিুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত ১ ডিসেম্বর রবিবার নাচোল বাজারে নতুন আমন ধানের মূল্য ৬২০ টাকা মন দরে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সূর্য্যপুর গ্রামের কৃষক ও আদিবাসী নেতা বিধান সিং, হাঁকরইল গ্রামের কৃষক সেকান্দার আলী, আলী আকবর ও একরামুল হক, রাজবাড়ীহাট এলাকার মেঘনাধ ওরাও, আন্ধরাইল গ্রামের কৃষক একরামুল হক, সোনামসনার গ্রামের কফিল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান, কালইর গ্রামের শিক্ষক নাজিম আল মামুন, মাক্তাপুর গ্রামের মতিউর রহমান খোকন, বহরইল দিঘিপাড়া গ্রামের খুরসেদ আলী ও স্বপন আলীসহ শতাদিক কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে আমন আবাদে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৪০০টাকা থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা।
জমিতে এবছর বিঘা প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৪-১৬ মন ধান। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬২০ টাকা মন দরে ৮ হাজার ৬৮০ টাকা বা সর্বউর্ধে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্গা জমিতে আবাদ করলে জমির মালিককে দিতে হবে ৪মন, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরী ৪ মন, ধান উঠানো গাড়িভাড়া ও মাড়াই খরচ ১ মন। মোট ৯ মন ধান খরচ হচ্ছে।  বিঘা প্রতি আবাদ খরচ সার, বিষ, কীটনাশক, নিড়ানী ও শ্রমিক মূল্য মিলিয়ে (৫হাজার, ৫৮০টাকা ও উৎপাদন খরচ ৭ হাজার ৪০০ টাকা ) মোট ১২ হাজার, ৯৮০টাকা।
বিঘা প্রতি মোট উৎপাদিত ১৪  থেকে ১৬ মন ধান থেকে ৫ থেকে ৭ মন ধান উৎপাদন খরচ হলে কৃষকের প্রতি বিঘা কৃষকের থাকলো ৯ মন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ হাজার ৫৮০টাকা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষককে বিঘা প্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা লোকসানও দিতে হচ্ছে।  তাই কৃষক বাঁচার যে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে আবাদ করেছে, সে স্বপ্ন যেন ভেস্তে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এবছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২২ হাজার, ৫৭৮ হেক্টোর, অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা  প্রায় ২৩ হাজার হেক্টোর। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৬ লাখ, ৩ হাজার, ৬১১ মেঃ টন। তবে এবছর ধান পাকা অবস্থায় মৌসুমী বৃষ্টি পাতের কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
একদিকে সরকার কৃষকদেরকে ভর্তুকী দিয়ে সার, বীজ কীটনাশক ও সেচ খরচ দিয়ে আসছে।  অন্যদিকে ধানের বর্তমান বাজার দরে কৃষকরা হতাশ হয়েছে। আবার লটারীর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা মন দরে আমন ধান সংগ্রহ করছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা সুখি নয় এটাই এমনটি বলছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স/অ
Print