মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে: কাদের

December 2, 2019 at 7:51 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশর উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে বারবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। উন্নয়নে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

সোমবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, শ্লোগান দিয়ে আর পোস্টার-ব্যানারে সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা হওয়া যায় না। সুসময়ের বসন্তের কোকিলদের আমরা চাই না। দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী এর আগে কমিটিতে জায়গা পাননি। তাদের এখন জায়গা করে দিতে হবে। কর্মীদের কোনঠাসা করে আওয়ামী লীগ বাঁচবে না।

তিনি আরও বলেন, কর্মীরা ঠিক আছে, সব গোলমালের উৎস হচ্ছে এই মঞ্চ। এখানে অনেকে ঘরের মধ্যে ঘর করেন এবং মশারির মধ্যে মশারি খাটান। আত্মীয়করণ করে, চৌদ্দপুরুষ নিয়ে পকেট কমিটি করেন। কিন্তু এখন আর পকেট কমিটি চলবে না। আমি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিতে চাই, কমিটি করতে গিয়ে দল ভারী করতে খারাপ লোকদের টেনে আনবেন- এটা চলবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে সৎ, দক্ষ ও সাহসিক রাজনৈতিক নেতার নাম শেখ হাসিনা। সাড়াবিশ্বে দু’জন সেরা প্রধানমন্ত্রীর একজন হচ্ছেন শেখ হাসিনা। সারা বিশ্বে সবচয়ে ১০ জন প্রভাবশালী নেতার একজন শেখ হাসিনা।

বেলা সোয়া ১২টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যতম সদস্য ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি ও আবদুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাম্মী আহমেদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনুসহ এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যগণ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আলমগীর হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবদুল মান্নান।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বলেন, বিএনপি জঙ্গিবাদকে লালন করছে। এ কারণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া নিজামী-মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার জন্য বিএনপি এ দেশে বাংলা ভাই-আবদুর রহমান সৃষ্টি করেছিল। সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা করা হয়েছিল।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্নকে হত্যা করেছিল এদেশে অবস্থনকারী পাকিস্তানের দোসররা। ওরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগকে শেষ করে দিতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর দল, এ দলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ দেশের বৃহত্তম দল, এ দলকে পরাস্ত করার ক্ষমতা ও শক্তি বিএনপি-জামায়াতের নেই।

আবদুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ-ধান্দাবাজ ও অনুপ্রবেশকারীদের আওয়ামী লীগে জায়গা হবে না। যারা ওয়ান-ইলেভেন মোকাবেলা করেছেন এবং আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শুধু তারাই মূল্যায়িত হবেন।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলাদেশ এবং শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে চান। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন তখনই পাকিস্তানি দোসরা তাকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এ দলের হাল ধরেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করছেন।

Print