হট লাইনে অভিযোগ পেয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে দুদকের অভিযান

December 2, 2019 at 7:47 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হট লাইনে সনদ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও ‍উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে একটি টিম সকাল ১০টা হতে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত গোপনে ও প্রকাশ্যে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

পরে এর সাথে জড়িত থাকায় ছয় জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

দুদকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সনদপত্র উত্তোলন, নাম সংশোধন, ফলাফল সংশোধন, ভর্তি বাতিল, এক কলেজে ভর্তি বাতিল করে নতুন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনে সরকার নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিদ্যালয় মঞ্জুরী নবায়ন, বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা, মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি, একাডেমিক স্বীকৃতি ও মহাবিদ্যালয়ের ছাড়পত্র প্রদান ইত্যাদি কাজে উৎকোচ গ্রহণ ও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে- বলে একজন ভূক্তভোগী দুদক-এর হট লাইন ১০৬ এ অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে আজ দুদক এ অভিযান চালায়।

অভিযানের শুরুতে সকাল গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে দুদক। গোপন অভিযানকালে সেবা প্রত্যাশীদের নিকট নাম সংশোধন, সনদপত্র উত্তোলন ও সনদপত্র ইংরেজী ভার্সন রূপান্তরের নামে শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারীগণ নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা গ্রহণ করছে এবং আবেদন ফরম গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। কাউন্টারের মাধ্যমে আবেদনপত্র নেয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ আবেদন ফরম বিভিন্ন কর্মচারীর মাধ্যমে সরাসরি নিয়ে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উৎকোচের বিনিময়ে কাজ করে দিচ্ছে। উৎকোচের ভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন শাখার স্টাফদের দিতে দেখা যায়। এ চিত্র প্রায় সব শাখায় দেখা যায়।

এছাড়া সেবা প্রত্যাশীগণ এসএমএস-এর মাধ্যমে ডেলিভারী কাউন্টার হতে সংশ্লিষ্ট সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি তারা পাচ্ছেন না, প্রার্থীগণ বাড়তি টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে সেবা প্রদান করছে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার। পর্যালোচনা করে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

এসবের সাথে জড়িত থাকার দায়ে শিক্ষাবোর্ডের পত্রপ্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারি মো. মুরাদ আলী, স্ক্রীপ্ট শাখার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী মো. রুবেল খান, মো. আসলাম হোসেন ওরফে চৌধুরীকে হাতেনাতে প্রার্থীদের আবেদন ফরম ও উৎকোচসহ আটক করে সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন,  পত্রপ্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ আহসান আলী অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ৬ জনকে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে বোর্ড এর সচিব ড. মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন-এর সাথে আলোচনা করা হয়। পরে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন সচিব।

এছাড়া বোর্ড-এর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার একটি সভা আহ্বানপূর্বক অনিয়ম চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান সচিব।

দুদকের অভিযান পরিচালনাকারী টিম বোর্ডকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড ঝুলানো, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও বহিরাগত দালাল চিহ্নিত করে তাদের বোর্ডে প্রবেশে নিষিদ্ধকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

টিম এ বিষয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করবেন।

 

 

স/শা

Print