রাজশাহী কারাগারের দুর্নীতির ব্যবস্থা নিতে দুদককে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)। এখানে সংঘটিত দুর্নীতি-অনিয়মসংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উদ্যোগে গঠিত একটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুদককে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চল দুদক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এপ্রিলে ১১ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগ দেয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ও কারা অধিদফতরে। এ নিয়ে ২১ মে ‘রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে খাবারের গলাকাটা দাম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেনকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ওই মাসেই তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন। বন্দিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন। গত মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মন্ত্রণালয়ের এ কমিটি। নভেম্বরের প্রথম দিকে এ তদন্ত প্রতিবেদন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়।

রাজশাহী দুদক অঞ্চলের উপপরিচালক (ডিডি) মোহা. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার জানান, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দু’দিন আগে রাজশাহীতে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। দুদক অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে ও পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ ৮৬ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, জেলার হাবিবুর রহমান, ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদের নাম মূল অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ডিআইজি প্রিজন্স আলতাফ হোসেন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৬৮ কারারক্ষীকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তবে সিনিয়র জেল সুপারের বদলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলারের বদলির বিষয়টি কারা অধিদফতরের এখতিয়ারভুক্ত।

Print