নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুংকার কেবল শব্দ দূষণই করবে: ইনু

November 19, 2019 at 9:11 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাজারে নিত্য পণ্যের দামের ওঠানামা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে। সেই আলোচনা-সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। তা সরকারকে সাহায্য করে। কিন্তু বাজারের নিত্যপণ্যের দামের ওঠানামা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বাদ দিয়ে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুংকার দেয়ার অপরাজনীতি গ্রহণযোগ্য না।

মঙ্গলবার দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই অপরাজনীতিটা বন্ধ করুন। কথায় কথায় নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুংকার কেবল শব্দ দূষণই করবে কিন্তু নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকারের কিছুই হবে না।

কষ্ট হলেও সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, পেঁয়াজের পর এবার চালের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট ১৪ দল সমর্থন করে না। সড়ক পরিবহনের কারো যদি ‘সড়ক পরিবহন আইন’ নিয়ে কথা থাকে; মালিক হোক, শ্রমিক হোক আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করুন। মানুষকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট করবেন না।

নির্বাচন-আন্দোলনসহ সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন চিঠির রাজনীতির শুরু করেছে মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভারত সফরের সময় কোনও চুক্তি হয়নি, দেশের স্বার্থে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে।

‘শেখ হাসিনা দেশ বিরোধী কোনও কাজ করেননি, কোন দিন করবেনও না। অথচ হঠাৎ করে দেখলাম বিএনপি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল। পার্লামেন্ট চলেছে, কিন্তু সংসদে তারা এই বিষয় নিয়ে একটি শব্দও বলেননি। এখন চিঠি দেয়ার অর্থটা কি? এখন তো তাদের কোন ইস্যু নেই।’

পেঁয়াজের পর এবার চালের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে- এমন অভিযোগ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে আগাম প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসৎ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে তৎপর হন।

তিনি বলেন, একটা অশুভ চক্র আছে, যারা মানুষের ক্ষুধা নিয়ে রাজনীতি করে। এই অশুভ শক্তি কারা তা সবাই জানে। বিএনপি-জামায়াত এমন কিছু নেই যে তারা করতে পারে না। এই চক্র সব সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে।

যারা গুদামে পেঁয়াজ রেখে পচিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে প্রচুর পেঁয়াজ মজুদ ছিল, ঘাটতি নেই। একটা মহল সিন্ডিকেট করে পিঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। এরা কারা আমরা সবাই জানি। চিহ্নিত এই মহলকে ছাড় যাবে না।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন- বিমানে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। তখন দাম কমা শুরু হল। আবার অনেক স্থানে নষ্ট পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় পেঁয়াজ নিয়ে চক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। যারা রাজনীতিতে ব্যর্থ, আন্দোলনে ব্যর্থ, তারা বুয়েটের আবরারের হত্যার বিষয়ে ভর করে ফায়দা নিতে আবারো চক্রান্ত করছে। সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য চক্রান্তকারীরা আবার পাঁয়তারা শুরু করেছে।

বৈঠকের অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুর বশর মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print