জান্নাতের মাটি কেমন হবে

November 9, 2019 at 8:50 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

প্রত্যেক মুমিনের কল্পনায় জান্নাতের চিত্র ভেসে ওঠে। যখন কোনো মুমিন আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকেন তখন জান্নাতের স্নিগ্ধ হাওয়া যেন তাঁর মন ছুঁয়ে যায়। শেষরাতে মহান আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকা ওলি-আউলিয়ারা হারিয়ে যান অন্য কোনো ভুবনে। যখন কোনো মুমিনের মুখে সুবহানাল্লাহ উচ্চারিত হয় তখন তাঁর চোখে ভেসে ওঠে জান্নাতের সেই সবুজ বৃক্ষটি, যা তাঁর জিকিরের পুরস্কারস্বরূপ তাঁর জন্য জন্ম নিয়েছে।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি গাছ হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৬৪)

জান্নাত নিয়ে প্রত্যেক মুমিনেরই কৌতূহল রয়েছে। জান্নাত দেখতে কেমন হবে। সেখানকার গাছপালাগুলো কেমন হবে। সেখানকার ঘরগুলো কি মেঘে ভাসবে, সোনা দিয়ে মোড়ানো থাকবে? আরো কত কি!

প্রিয় নবী (সা.) বিভিন্ন সময় জান্নাতের বিভিন্ন বর্ণনা দিয়ে গেছেন। যে হাদিসে রাসুল (সা.) মেরাজের বর্ণনা দিয়েছেন, সেই হাদিসের শেষাংশে জান্নাতের মাটির কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়।

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, আবু যার (রা.) উপস্থিত ছিলেন। রাসুল (সা.) বলেন, নবী (সা.)-কে যখন আসমানে উত্তোলন করা হয় (মিরাজের দীর্ঘ হাদিস) তিনি বলেন : …আবার (জিবরাইল) আমাকে নিয়ে চলতে লাগল এবং সিদরাতুল মুনতাহায় (কুলবৃক্ষ পর্যন্ত) আমাকে নিয়ে পৌঁছল। আমার অজানা অনেক রং তাকে (কুলবৃক্ষটিকে) আবৃত করে রেখেছে। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। সেখানে আছে মণি-মুক্তার গম্বুজ। আর জান্নাতের মাটিগুলো মিশক-আম্বরের। (মুসলিম, হাদিস : ৩০৪, হাদিস একাডেমি)।

হাদিসে জান্নাতের মাটিগুলো মিশকের বলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সেখানকার মাটিগুলো মিশকের মতো সুগন্ধিময়। মিশক অত্যন্ত মূল্যবান একটি সুগন্ধি। পুরুষ হরিণের পেটে অবস্থিত সুগন্ধিগ্রন্থি নিঃসৃত সুগন্ধির নাম। এই সুগন্ধি এতটাই শক্তিশালী যে কথিত আছে, কস্তুরির এক তিল পরিমাণ কোনো বাড়িতে ফেললে বহু বছর সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। তিন হাজার ভাগ নির্গন্ধ পদার্থের সঙ্গে এর এক ভাগ মেশালে পুরো পদার্থই সুবাসিত হয় কস্তুরির ঘ্রাণে। দুনিয়ার মিশকের সুরভি যদি এতটা উৎকৃষ্ট হয়, তাহলে জান্নাতের মিশক জানি কেমন হবে!

সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় মেহমানদের জন্য জান্নাতের মাটিকে এতটা সুগন্ধিময় করে রাখবেন। শুধু তা-ই নয়, জান্নাতের মাটির রং হবে ধবধবে সাদা।

হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে সয়্যাদ জান্নাতের মাটি সম্পর্কে নবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জান্নাতের মাটি ময়দার মতো সাদা এবং খাঁটি মিশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৭০৮৮; ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

সাদা মাটি দুনিয়াতে ব্যাপকভাবে না পাওয়া গেলেও কিছু জায়গায় পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত মূল্যবান, যাকে আমরা সাধারণত চীনামাটি বলে চিনি। প্রাচীন যুগ থেকেই চীনামাটির জিনিসপত্র বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বলা যায়, চীনামাটি রপ্তানির মাধ্যমেই চীনের সুনাম ব্রিটেন ও ইউরোপের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নেও আছে সাদা মাটি। সেখানকার আড়াপাড়া গ্রাম এলাকায় সাদা মাটির পাহাড় দৃষ্টি কাড়ে দর্শনার্থীদের। সবুজ পাহাড়ের পাশাপাশি স্বচ্ছ নীল পানির যুগলবন্দি কাশফুলের সৌন্দর্য যেন আরো বাড়িয়ে দেয়, যা দেখে প্রত্যেক মুমিনের হৃদয় আনন্দে ভরে যায়। দুনিয়ায় সাদা মাটি-সবুজ ঘাসের পাহাড়কে মহান আল্লাহ কত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। না জানি জান্নাতের সেই ধবধবে সাদা ভূমিকে মহান আল্লাহ কিভাবে সাজিয়েছেন, যার ওপর থাকবে চোখ ধাঁধানো গাছপালা, মুক্তার গম্বুজ।

মহান আল্লাহ আমাদের সেই জান্নাতের অধিবাসী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

Print