বগুড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

November 7, 2019 at 5:42 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বারের বিভিন্ন কাজে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম ২০১৮ সালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বার ভবনের সামনে প্রবেশ পথে টিনের ছাউনি নির্মাণ, ড্রেনের স্লাব, লাইব্রেরিতে বিদ্যুতের কাজ, সিমেন্ট ক্রয়, বৈদ্যুতিক ডাবল লাইনের সংযোগসহ অন্যান্য কাজ করেন। এসব কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অডিটে ত্রুটি ধরা পড়লে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত রিপোর্টে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৭২২ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ক্রয় দেখানো হলেও নেসকো এর বিনিময়ে কোনো টাকা নেয়নি। গত ৫ নভেম্বর গওহর আলী ভবনে বার সমিতির সাধারণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে গোলাম ফারুক, আবদুল বাছেদ, আশেকুর রহমান সুজন, মিশকাতুল আলম চিশতি, শের আলী, নরেশ মুখার্জি, এএইচএম গোলাম রব্বানী খান রোমান, ফজলুল বারী ইন্টু, আতাউর রহমান খান মুক্তা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্যে আতাউর রহমান সাধারণ সম্পাদক একেএম সাইফুল ইসলামের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন।

সর্বসম্মতিতে ২০১৮ সালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা একেএম সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। এ সময় তার কল্যাণ তহবিল থেকে আত্মসাৎকৃত টাকা কর্তন করে জমা রাখা এবং তার বিরুদ্ধে বারের সংবিধান অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ ছাড়া আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকারিয়া সুজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ফোন না ধরায় এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তিনি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সাধারণসভায় বক্তব্য দিতে না দেয়ায় ওয়াক আউট করেছেন। তিনি কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেবেন।

বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান জানান, সাধারণসভায় ৪৫০ সদস্যের উপস্থিতিতে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন।

 

Print