রাবির ক্রপ সায়েন্স বিভাগ, দুই শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

November 7, 2019 at 11:40 am

রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম বিভাগেরই আরেক অধ্যাপক আলী আসগরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে অধ্যাপক আসগর খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। এদিকে, অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের অভিযোগপত্রে বলা হয়, অধ্যাপক আলী আসগর অস্বচ্ছ ও অবৈধ পন্থায় বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে শিক্ষার্থীদের এগ্রিক্যামেস্ট্রি ও বায়োক্যামেস্ট্রি-২ মিলিয়ে একত্রে ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হয়। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ এই কোর্সের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বায়োক্যামেস্ট্রি-১ বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একই বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এগ্রিক্যামেস্ট্রি কোর্সটি পড়ান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং বায়োক্যামেস্ট্রি কোর্স অধ্যাপক আলী আসগর ও অধ্যাপক যুগোল কুমার সরকার যৌথভাবে পড়িয়ে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাবুল ইসলাম জানান, যারা ব্যবহারিক পরীক্ষার দায়িত্বে থাকবেন মূল নম্বরপত্রে অবশ্যই তাদের স্বাক্ষর থাকতে হবে। কিন্তু পরীক্ষার দিন অধ্যাপক যুগোল কুমার উপস্থিত থাকলেও ব্যবহারিকের মূল নম্বরপত্রে তাঁর স্বাক্ষর নেই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বায়োক্যামেস্ট্রি-১ এর ব্যবহারিক পরীক্ষার হাজিরা খাতায় ‘সি’ গ্রুপে এক্সটার্নাল হিসেবে অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদারের স্বাক্ষর থাকলেও মূল নম্বরপত্রে তারও স্বাক্ষর নেই।
এদিকে, ব্যবহারিকের খসড়া নম্বরপত্রে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক যুগোল কুমার, অধ্যাপক আলী আসগর ও অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষর থাকলেও মূল নম্বরপত্রে শুধু অধ্যাপক আলী আসগর ও অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষর রয়েছে। ওই দিনের শিক্ষকদের উপস্থিতির হাজিরা বইয়ের ফটোকপি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানতে চাইলে অধ্যাপক যুগোল কুমার বলেন, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ওই কোর্সের ব্যবহারিক পরীক্ষায় তিনজন শিক্ষার্থী পাশ মার্ক থেকে দু-এক মার্ক কম পায়। আর ব্যবহারিকে ফেল করলে শিক্ষার্থীকে পুনরায় ওই বর্ষে থাকতে হয়। তাই অধ্যাপক আলী আসগরকে অনুরোধ করেছিলাম বিশেষ ও মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে পাশ করিয়ে দেওয়া যায় কি না। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেননি। মূল নম্বরপত্র তৈরি করে তার সঙ্গে খসড়া কপি সংযুক্ত করে আমার স্বাক্ষর ছাড়াই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠিয়ে দেন তিনি। এর আগেও তিনি একই কাজ করেছেন।
এদিকে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বায়োক্যামেস্ট্রি-১ কোর্সের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্রে দেখা গেছে, একই রোলধারী শিক্ষার্থী এক জায়গায় শূন্য এবং অন্য পাতায় সতেরো নম্বর দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম দাবি করে বলেন, ‘অধ্যাপক আলী আসগর একই শিক্ষার্থীর নম্বর দুই জায়গায় দুই রকম দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তার অস্বচ্ছতা অবলম্বনের বিষয়টি সুস্পষ্ট।’
তবে অধ্যাপক আলী আসগর বলেন, ‘যখন নম্বরপত্র তৈরি করেছি তখন অধ্যাপক যুগোল কুমার অনুপস্থিত ছিলেন। আর অধ্যাপক যুগোল কুমারের হাতে দুয়েকজন শিক্ষার্থী ফেল করে। তিনি আমাকে সেসব শিক্ষার্থীকে জোর করে পাশ করিয়ে দিতে বলেন। আমি দেইনি। তাই সে স্বাক্ষরও করেনি। একই শিক্ষার্থীর নম্বরের ভিন্নতার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একই শিক্ষার্থীর নম্বরে ভিন্নতা হওয়ার কথা না। সম্ভবত নম্বর ম্যানুপুলেট করা হয়েছে।’ ওই সময়ে বিএসসি এজি (অনার্স) পার্ট-১ পরীক্ষার সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক এম আল বাকী বরকতুল্লা। তিনি বলেন, ‘নম্বরের ভিন্নতার বিষয়টি কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।’
জানতে চেয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এমএ বারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটা অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও অভিযোগটি সম্পূর্ণ দেখা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, গত মঙ্গলবার (০৫.১১.১৯) বিভাগের সভাপতিকে মাধ্যম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের (ভারপ্রাপ্ত) কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খাইরুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিভাগের বিএসসি এজি (অনার্স) পার্ট-২ পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন ফলাফল তৈরির সময় দেখি এগ্রিক্যামেস্ট্রি-১ ও বায়োক্যামেস্ট্রি-২ কোর্স-২১৮ এর পরীক্ষায় তিন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। কিন্তু ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্রে সংশ্লিষ্ট কোর্সের আরেক শিক্ষক যুগোল কুমার সরকারের স্বাক্ষর নেই। অথচ শিক্ষক উপস্থিতির হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর আছে। তখন অধ্যাপক যুগোল কুমার জানান অধ্যাপক আলী আসগর নিজের তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক নম্বর জমা দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি আরো লেখেন, বিএসসি এজি (অনার্স) পার্ট-১ পরীক্ষায় ২০১৭ সালে চারজন এবং ২০১৮ সালে তিনজনকে একই কায়দায় ফেল করিয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক আলী আসগর।

Print