তবুও এগিয়ে যেতে চায় রিয়াদ!

November 6, 2019 at 10:39 pm

মঞ্জুরুল আলম মাসুম, বাগাতিপাড়া:
সাইমুন ইসলাম রিয়াদ। শারীরিক প্রতিবন্ধী। দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীন। কিন্তু পড়ালেখা করে সমাজের মূল স্রোতধারার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চায়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার গন্ডি পেরিয়ে এবার জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

তবে নিজে লিখতে না পারায় নিয়েছে শ্রুতি লেখক। স্বপ্ন তার প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়া। অদম্য সাইমুন ইসলাম রিয়াদের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা গ্রামে। চলতি বছর বাগাতিপাড়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ডিগ্রী কলেজ ভেন্যুতে ১০ নং কক্ষে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রিয়াদ। পরীক্ষা কেন্দ্রে কথা হয় রিয়াদ ও তার বাবা-মার সাথে।

শিক্ষার্থী রিয়াদ জানায়, সে পাঁকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর আগেও শ্রেণী পরীক্ষায়ও একই ভাবে পরীক্ষা দিয়েছে। এবার তার নিকট আত্মীয় সালাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াদুস সলেহিন রিয়াদ তাকে লিখে দিচ্ছে। রিয়াদুস সলেহিন রিয়াদ জানায়, পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থী রিয়াদ তাকে মুখে যা বলে সেগুলোই পরীক্ষার খাতায় সে লিখে দেয়।

রিয়াদের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তার তিন সন্তানের মধ্যে বড় রিয়াদ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। আর ছোট মেয়ে রাদিতা নবম শ্রেনীতে এবং ছেলে রামিম তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। তিনি নিজে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে চাকরি করেন। ছেলে রিয়াদ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি দুঃশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। পরে ছেলের আগ্রহের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাকে লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করছেন। রিয়াদের মা তাকে মুখে উচ্চারণ করে পড়া মুখস্ত করান। পরীক্ষা এলে একজন শ্রুতি লেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। মা হোসনে আরা জানান, রিয়াদ ঠিকমতো চোখে দেখতে পায়না। শারীরিকভাবেও স্বাভাবিক নয়। কিন্তু তাকেও স্বাভাবিক সন্তানদের মতই মানুষ করতেই লেখাপড়ায় এগিয়ে নিচ্ছেন। সমাজের এমন সন্তানের বাবা-মাকেও যত্নশীল হয়ে তাদের পড়ালেখায় এগিয়ে নিতে তিনি আহ্বান জানান।

কেন্দ্র সচিব কাইছার ওয়াদুদ বাবর বলেন, শ্রুতি লেখক নিয়ে পরীক্ষার আবেদন করায় তাকে বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে।

স/অ

Print