বগুড়ায় ভুল অস্ত্রোপচারে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, ২ ডাক্তার আটক

October 25, 2019 at 1:19 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বগুড়ায় অস্ত্রোপচারের পর বেসরকারি ক্লিনিকে তাউহিদ হাসান (৯) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার ডক্টরস ক্লিনিকে (ইউনিট-২)। নিহত শিশুর বাবা ও তার পরিবারের অভিযোগ ভুল চিকিৎসার কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে এবং নিহতের সঠিক মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাতে ঘটনার পর জনতার তোপের মুখে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নাক কান ও গলা ) ডা. সাঈদুজ্জামান ও ডা. নিতাই চন্দ্রকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত তাউহিদ হাসান সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী গ্রামের ফিরোজুল ইসলামের ছেলে । সে বর্তমানে শাজাহানপুর এলাকার শাহীন একাডেমিতে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী । সাইফুল ইসলাম ছেলের লেখাপড়ার জন্য পরিবার নিয়ে বর্তমানে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুসারে পুলিশ জানায়, টনসিলজনিত অপারেশনের জন্য নিহত তাউহিদ হাসানকে বৃহস্পতিবার বিকালে তার বাবা শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার ডক্টরস ইউনিট-২ নামের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাউহিদ হাসানকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে ডা. সাঈদুজ্জামান তাউহিদ হাসানের টনসিল অপারেশন করেন। তারপর থেকে থেকে শিশুটির জ্ঞান আর ফিরে আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও তার বাবা ফিরোজুল ইসলাম অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, অপারেশনের পর মিথ্যা কথা বলে তাদের বাচ্চাকে অতিরিক্ত সময় অপারেশন থিয়েটারে রাখার পর তাকে একটি আলাদা রুমে রাখা হয় । এ সময় সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হয়নি। শিশুর পরিবারকে জানানো হয় এখন সেখানে যাওয়া যাবে না । এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তা এবং শিশুটির বিষয়ে কিছু জানতে না দেবার কারণে পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। তখন তাদের বলা হয় শিশুটি ভালো আছে। পরে শিশুর পরিবার এক রকম জোর করে ওই রুমে ঢুকে শিশুটির শরীরে হাত দিলে শরীর বরফের মতো হিম শীতল অবস্থায় দেখে। তারা বুঝতে পারে বেশ সময় আগেই শিশুটি মারা গেছে। এ সময় শিশুটির বাবা-মায়ের কান্নাকাটিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

নিহত শিশুর পিতা ফিরোজুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা অভিযোগ করে বলেন, তাদের দাবীকৃত টাকা আগাম পরিশোধের পরও তার তরতাজা বাচ্চাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এমনকি ছেলের মৃত্যু হবার পরেও তার মৃত্যু ঘটনা গোপন করে তাদের মিথ্যা কথা বলা হয়েছে।

ঘটনার পর স্বজনদের কান্না চিৎকার চেঁচামেচিতে সেখানে শত শত লোক ভীড় করে এবং ক্লিনিকে চড়াও হবার চেষ্টা করে। ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক) এসএম বদিউজ্জামার ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত)সহ পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় জনতার রোষের মুখে পুলিশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভিগীয় প্রধান (নাক কান ও গলা ) ডা. সাঈদুজ্জামান ও ডা. নিতাই চন্দ্রকে আটক করে থানায় নেয় ।

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল ইসলাম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান , নিহতের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ করা হলে আটক ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে এবং তা মামলা আকারে নথিভুক্ত করা হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত ডাক্তার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নাক কান ও গলা ) ডা. সাঈদুজ্জামান বলেন, এনেসথেসিয়ার কারনে শিশুটির মৃত্যু ঘটে থাকে পারে । নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল অনুরুপ এক ঘটনায় শহরের একটি নামসর্বস্ব ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুল অপারেশনের হুমাইরা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই সময় ক্লিনিকে ব্যপক ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা । বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশের পর অনুমোদনবিহীন ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

Print