জয়পুরহাটে গৃহবধূ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড

October 22, 2019 at 7:21 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দেওড়া আশ্রয়ন কেন্দ্র’র গৃহবধু আরতি রাণীকে ধর্ষণ করে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ রায় দেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক ড.এ.বি.এম মাহমুদুল হক। একই সাথে দু’জনের পাঁচ লাখ এবং পাঁচ জনের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক জনাকীর্ণ আদালতে তিনি ওই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আক্কেলপুর উপজেলার মারমা গ্রামের সোহেল তালুকদার, দেওড়া সোনারপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন, মজিবর রহমান, একই গ্রামের গুচ্ছগ্রামের রাহিন, আজিজার রহমান, সাখিদার পাড়ার ফেরদৌস আলী ও জগতি গ্রামের রুহুল আমীন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর রাতে দেওড়া আশ্রয়ন কেন্দ্র’র উজ্জল মোহন্তের স্ত্রী আরতী রাণীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসামিরা গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরতী রাণী মারা যায়। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর আরতী রাণীর স্বামী উজ্জল মোহন্ত বাদী হয়ে দন্ডপ্রাপ্ত সাতজনকে আসামী করে আক্কেলপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলটি তদন্ত শেষে ওই বছরই ৭ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জসিট দাখিল করেন আক্কেলপুর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাইসুল ইসলাম।
মামলার চার্জসিট আমলে নিয়ে দীর্ঘ শুনানী ও স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে আসামীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক সকল আসামির মৃতুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। একইসাথে আসামি সোহেল ও ফেরদৌস এর ৫ লাখ টাকা ও অন্য ৫ জনের ১ লাখ টাকা করে জরিমানারও আদেশ দেন। আসামীদের সকলেই জেল হাজতে আটক ছিল।

রায় ঘোষণা পরপরই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আসামি পক্ষের আত্মীয়রা। অন্যদিকে, কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন বাদীর পরিবার।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আইনজীবী ফিরোজা চৌধুরী এবং বিবাদী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলামসহ ৫ জন।

সরকার পক্ষের আইনজীবি এ্যাড. ফিরোজা চৌধুরী জানান, এই রায়ে ন্যায় বিচার পাওয়ায় মামলার বাদী পক্ষের পরিবারসহ সকলেই খুশি হয়েছেন। এটি দৃষ্টান্তমূলক রায় হয়েছে। রায় কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, আসামী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ন্যায় বিচারের জন্য তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

 

স/শা

Print