এইচএসসিতে রাজশাহী বোর্ডে ৪র্থ হওয়া সাদাত এখন খুনের আসামি

October 16, 2019 at 9:45 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার এজাহারে থাকা ১৭ নম্বর আসামি জয়পুরহাট সদর উপজেলার কড়ই উত্তরপাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে নাজমুস সাদাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার একটি দল দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকার সাদাতের এক আত্মীয় রফিকুলের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তার উদ্দেশ্য ছিল কাটলা সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার।

সাদাতের বাবা হাফিজুর ২০০৭ সাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলে চাকরি করছেন এবং বর্তমানে হাজী মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন। এর আগে তিনি জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। চাকরির কারণে হাফিজুর প্রথমে জয়পুরহাট শহরে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরের হেলেনাবাদে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। গ্রামে হাফিজুরকে সবাই চিনলেও তার ছেলে সাদাতকে সেভাবে কেউ চেনে না, তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রামে আসেন।

বিত্তশালী পরিবারের সন্তান সাদাত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী, বাবা স্কুলে চাকরি করলেও মা সাদিয়া বেগম একজন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সাদাত বড়।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী সাদাত ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তিসহ ২০১৫ সালে রাজশাহী গর্ভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে গোল্ডেন প্লাসসহ রাজশাহী বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএসহ রাজশাহী বোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করে পরিবারসহ স্থানীয়দের অবাক করে দেয়। এরপর ঢাবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রুয়েট ও কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত বুয়েটকেই বেছে নেন তিনি।

তার দাদা মাওলানা আছির উদ্দিন স্থানীয় কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। দাদাসহ সাদাতের দুই চাচা গ্রামে থাকেন। মেজ চাচা আমিনুল ইসলাম ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীরহাট মাদরাসার শিক্ষক এবং ছোট চাচা ওবায়দুর রহমান কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি করেন।

কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদরাসার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, সাদাতের বাবা হাফিজুর রহমান সম্পর্কে তার আপন চাচাতো ভাই। সাদাত তার দাদার বাড়ি খুব কম আসত। গ্রামের মানুষ তাকে চিনতো সজীব নামে। গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখে তারা আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাদাতের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন।

সাদাতের চাচা ওবাইদুর রহমান বলেন, সাদাত যদি অপরাধী হয় তাহলে আইন তার বিচার করবে। না হলে সে আমাদের মাঝে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফিরে আসুক।

সাদাতের বাবা হাফিজুর রহমান জানান, সাদাত পরিস্থিতির শিকার। তবে দোষ প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, সাদাতের বাবা হাফিজুর রহমান অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার সময় শিবিরের রাজনীতি করতেন। পরবর্তীতে দলে সক্রিয় না হলেও কথাবার্তায় তিনি সবসময় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতেন। এলাকায় তাদের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। জয়পুরহাট জেলার মধ্যে কড়ই গ্রাম জামায়াত-শিবিরের জন্য উর্বর এলাকা বলেও তারা জানান।

Print