জড়িতদের ধরা হয়েছে, অপরাধীদের শাস্তি হবে, তারপরও আন্দোলন কেন?

October 9, 2019 at 9:34 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের সব ব্যবস্থা নেয়ার পরও বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার গণভবনে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বুয়েটে পিটিয়ে ছাত্র হত্যা এবং ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর নেয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

“আমি যখনই বুয়েটের খবর পেয়েছি, সাথে সাথে পুলিশকে বলেছি আলামত সংগ্রহ করতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। এরপর আমি দাবির অপেক্ষা করি নাই, পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে।”

জড়িতদের গ্রেপ্তারে তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের দলীয় পরিচয় রয়েছে কিনা – সে বিষয় দেখা হয়নি।

“অপরাধ অপরাধই, যারা অপরাধ করছে তাদের বিরুদ্ধে সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ধরণের ঘটনা আমি মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদের বহিষ্কার করতে বলেছি, পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে।”

“যারা জড়িত তাদের উচ্চ শাস্তি হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরা হয়েছে। তাহলে এরপরেও কেন আন্দোলন করা হচ্ছে?”

“যে মা-বাবা সন্তান হারিয়েছেন, তাদের যে কষ্টটা কী সেটা আমি বুঝি। একটা সাধারণ পরিবারের ছেলে, একটা ব্রিলিয়ান্ট ছেলে, তাকে কেন হত্যা করা হলো? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কোনও দল-টল বলে আমি মানি না।”

তাঁর পিতা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সহ নিজের পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে দীর্ঘ ৩৮ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বিচার পাইনি। যখন কেউ বিচার দাবি করে, সেটা আমি বুঝি।”

আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ হস্তক্ষেপ করুক, সেটাও তিনি চান না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “শিক্ষার্থীরা যতক্ষণ খুশী আন্দোলন করুক, আপত্তি নাই। একজন ছাত্র মারা গেছে, তারা আন্দোলন করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদেরও আচরণ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।”

বুয়েটের শেরে বাংলা হলে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করেছিল কেন সে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের কি উদ্দেশ্য ছিল আমি জানি না। তাদের মধ্যে খুনিরাও ছিল কি না, আমি জানি না।”

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “কারা হামলা চালাবে? কিভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে তাদের?”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের যে দাবি উঠেছে সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “বুয়েট কর্তৃপক্ষ চাইলে তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে পারে, আমরা হস্তক্ষেপ করবো না। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি কেন বন্ধ করা হবে?”

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালিয়ে ‘মাস্তানি’ বন্ধ করা হবে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চান।

Print