বাগাতিপাড়ায় রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ

October 9, 2019 at 9:45 pm

মঞ্জুরুল আলম মাসুম:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাইলকোনা-মাধববাড়িয়া রাস্তার সাইলকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পূর্ব দিকে মাধববাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৪ কি.মি.রাস্তা পাকা না হওয়ায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের আট হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, কাঁচা এই রাস্তাটি বৃষ্টিপাতের কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাঁদা মাটিতে একাকার হয়ে যায়। ঘন বর্ষার সময় জল কাদায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবে চলাচলের আর উপায় থাকে না। বর্ষাকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সাইলকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাইলকোনা উচ্চ বিদ্যালয়, সাইলকোনা ল্যাবরেটরি বালিকা বিদ্যালয়, সাইলকোনা ডিগ্রী কলেজ, সাইলকোনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সাইলকোনা লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা ও গ্রামের হাজার হাজার লোক চলাচল করে।

এলাকাবাসিরা জানান , গত ২০ বছরে এই ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় এক ডালি মাটিও পড়েনি । বর্ষাকালে এ রাস্তায় কর্দমাক্ততার কারণে হাঁটাও দায়। তবুও কর্দমাক্ত পিচ্ছিল এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছে। কর্দমাক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়েই হাট-বাজারে যেতে হয় এলাকাবাসীকে। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এ রাস্তাটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে আর কেউ এর খোঁজ রাখেন না। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নেতা আসে নেতা যায়; কিন্তু এ রাস্তা পাকা হয় না। বর্ষা আসলে প্রতিবছরই এ রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। হাঁটুসমান কাদামাটি পেরিয়েই এ রাস্তা দিয়ে যেতে হয় তাদের।

ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সাইলকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আহসান হাবিব জানান,রাস্তাটি ৩৫ বছর ধরে কাঁচাই রয়ে গেল পাঁকা আর হলোনা। ১৫ বছর থেকে শুনে আসছি সামনের অর্থ বছরে কাজ হবে। এই সামনের অর্থবছর আর আসছেও না আমাদের রাস্তাটিও পাকা হচ্ছেনা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ হয় যে এই দুই-তিন মাস স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা ঠিক মত প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেনা।

জনপ্রতিনিধি বদলায় কিন্তু বদলায় না আমাদের এলাকার দুর্ভোগের চিত্র। ফলে অত্র এলাকার চাষীরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করণ নিয়েও পড়েন বিপাকে এছাড়া কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।

স/অ

Print