বাগমারার কিশোরকে অপহরণ: ১৫ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

October 9, 2019 at 9:23 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: ঢাকার মিরপুরের পল্লবী থানাধীন সেকসন-১২ এর ব্লক-ডি, কালাপানি নতুন ক্যাম্প এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় রাজশাহীর বাগমারার এক কিশোরকে। আজও মানসিক প্রতিবন্ধী সেই কিশোরকে উদ্ধার করতে পারেনি দুই থানার পুলিশ।

এ ঘটনায় অপহরণের শিকার সাগরের পিতা শাকিল পল্লবী থানায় অপহরণ মামলা করতে গেলে পুলিশ দায়সারাভাবে একটি সাধারণ ডায়েরি নেয়। ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও অপহৃত সাগর উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ ও অপহৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারার গার্মেন্টস কর্মী শাকিল হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকায় বসবাস করেন। ঢাকার পল্লবী থানার মিরপুর কালাপানি নতুন ক্যাম্প এলাকায় থাকাকালীন তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে সাগর গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। ওই দিন অনেক খোজাখুজি করে করে তার কোন সন্ধান করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। পরে সকালে এক অজ্ঞাত মোবাইল থেকে প্রতিবন্ধীর পিতা শাকিল হোসেনের মোবাইলে কল করা হয়। এসময় ফোনে বলে তার ছেলেকে পাওয়া গেছে, তাকে পেতে হলে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এ সময় অপহরনকারী একটি রকেট (টাকা পাঠানোর) নম্বর পাঠায় শাকিলের মোবাইলে। পরে শাকিল কোন রকমে ১ হাজার টাকা জোগাড় করে ওই নম্বরে পাঠায়। এরপর অপহরনকারীরা আবার ৫ হাজার টাকা দাবি করলে শাকিল দ্বিতীয় দফায় তাদেরকে আবারো ১ হাজার টাকা পাঠায়। এর পরও অপহরনকারীরা প্রতিবন্ধী ওই কিশোরকে ফেরত না দিয়ে তার চাচা সাব্বিরের মোবাইল করে আরো ১০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করে। পরে নিরুপায় শাকিল ও তার ছোট ভাই সাব্বির বিষয়টি ২৩ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় গিয়ে জানায় ও একটি অপহরণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ সময় পুলিশ বিষয়টি নিয়ে অপহরন মামলা না নিয়ে দায়সারাভাবে একটি জিডি গ্রহণ করে। এ সময় ঘটনায় প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সাগরকে উদ্ধার করার বিষয়ে পল্লবী থানা পুলিশের কোন সহযোগিতা না পেয়ে অসহায় পরিবার ডিবি পুলিশের কাছে যায়। পরে ডিবি পুলিশ ওই মোবাইল নম্বরটি অনুসন্ধান করে জানতে পারে সেটি রাজশাহীর বাগমারা থানার গনিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের নামে রয়েছে। পরে প্রতিবন্ধীর পিতা শাকিল ও তার ভাই ছুটে আসে বাগমারা থানায়। গতকাল মঙ্গলবার তারা বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় হাসনিপুর গ্রামে গিয়ে দেখতে পায় হান্নান তার ঘরে তালা মেরে অন্যত্র উধাও হয়েছে। পরে হান্নানের মোবাইলে কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তারা শুনেছে হান্নান ঢাকার মিরপুর এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। তার স্ত্রী থাকলেও কোন সন্তান নেই। তিনি মাঝে মধ্যে গোপনে বাড়িতে এসে তার ভাইদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে আবার গোপনে সটকে পড়ে।

এদিকে প্রতিবন্ধী কিশোর অপহরনের ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও তাকে পল্লবী থানা ও বাগমারা থানার পুলিশ উদ্ধার করতে না পারায় চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে তার পরিবার।

প্রতিবন্ধীর পিতা শাকিল হোসেন জানান, আমি খুবই গরীব মানুষ । দিন আনি দিন খাই। ছিলেকে হারিয়ে আজ ১৫ দিন আমি ও আমার স্ত্রী বিউটি খাতুন এখন পাগল প্রায়। গরীব বলে পুলিশও আমাদের কথা আমলে নিচ্ছে না। তিনি তার ছেলেকে উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার উপপরিদর্শক মোসলেম আলী জানান, ওসি স্যারের নির্দেশ পেয়ে আমি আরো এক এসআইসহ ঘটনাস্থল হাসনিপুরে গিয়েও হান্নানের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে ধরার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, পল্লবী থানার ঘটনা । মামলা সেখানেই হওয়া দরকার। তারপরও আমরা পল্লবী থানার সাথে যোগাযোগ করে প্রতিবন্ধী ওই কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে পল্লবী থাকার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ওই কিশোরকে উদ্ধারে বিভিন্ন থানায় ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। বাগমারা থানার সাথেও আমরা কথা বলেছি। দ্রুত ওই কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

স/শা

Print