শেয়ারবাজারে আগ্রহ কমেছে বিদেশিদেরও

October 9, 2019 at 1:26 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আস্থার সংকটে শেয়ারবাজার। এ কারণে দেশি নয়, বিদেশিদেরও এখানে আগ্রহ নেই, ফলে বিনিয়োগ অব্যাহতভাবে কমছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ ২৬৬ কোটি টাকার বেশি কমেছে।

সামগ্রিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমনকি চীনের দুই শেয়ারবাজার সাংহাই এবং শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ার কেনার পরও বাজারে ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়েনি। অর্থনীতিবিদরা বলেন, বাজারের মূল সমস্যা আস্থা সংকট।

এই সংকট কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ নিতে হবে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা বিনিয়োগ আস্থা সংকট। এই সংকটের কারণে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসছে না। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাজারের গভীরতা বাড়ায়। কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে বিদেশিরা বিনিয়োগ করে।

এর মধ্যে রয়েছে বাজারের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, আইন-কানুন এবং কারসাজির করলে তার বিচার কত দ্রুত হয় সেটি বিদেশিরা বিবেচনা করে। তিনি বলেন, ২০১০ সালের পর বাজার অব্যাহতভাবে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এরপর ওইভাবে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বিপরীতে বোম্বে এবং সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থা খুব ভালো। তার মতে, স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন হলেও তার প্রভাব পড়তে অনেক সময় লাগবে। ডিএসইর তথ্য অনুসারে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে বিদেশিরা শেয়ারবাজারে ৭৮৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। এর মধ্যে ৩০৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। বিপরীতে ৪৭৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। এ হিসাবে তারা ১৬৪ কোটি টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেছে। পরের মাস আগস্টে ৪৫৬ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। এর মধ্যে ১৭৬ কোটি টাকার কিনেছে তারা। বিপরীতে বিক্রি করেছে ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার। এ হিসাবে কেনার চেয়ে বিক্রি ১০২ কোটি টাকা বেশি। সব মিলিয়ে দুই মাসে ২৬৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। এছাড়া জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টের লেনদেনের হারও কমে এসেছে। সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০১৩ সালের শেষের দিকে উদ্যোগ নিয়েছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে বিনিয়োগ পদ্ধতি এবং বিদ্যমান আইনকে আরও সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি মোট ১৪টি সুপারিশ করেছিল। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির ব্যাপারে উৎসাহিত করা, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার তথ্য দেয়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পেশাগত তথ্য সেবা ও অনলাইনে সঠিক তথ্য প্রদান, বন্ড ও এসএমই মার্কেট পুনর্গঠন, ইসলামিক ও ডেরিভেটিভ মার্কেটের মতো পৃথক বাজার গঠন, ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ হিসেবে গণ্য করা, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি ব্যাংকসহ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির ব্যাপারে উৎসাহিত করা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির বিদেশি পেনশন ফান্ড ব্যবস্থাপনা করার অনুমোদন এবং নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশির জন্য কোটা বরাদ্দ।

Print