বিশ্ব শিশু দিবস: কেমন আছে রাজশাহীর শিশুরা?

October 7, 2019 at 6:39 pm

সজল ইসলাম:

বাংলাদেশে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার পালিত হয় বিশ্ব শিশু দিবস। সে হিসাবে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ (৭ অক্টোবর)। দিবসটি উপলক্ষে শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৯ শুরু হয়েছে আজ।

এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো’।

বিভিন্ন দেশে নিজস্ব নির্দিষ্ট দিনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয় বাংলাদেশে।

দিবসটি উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ৭ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ সারাদেশে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দিবসটিকে ঘিরে রাজশাহীতে শিশুদের চিত্র তুলে ধরেছেন সিল্কসিটিনিউজের শিক্ষানবীশ প্রতিবেদক সজল ইসলাম। প্রতিবেদন…

সূর্য জন্মের পর হতে বেড়ে উঠেছে বিকলাঙ্গতা নিয়ে। ১১ বছরের সূর্যের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার দেবীপুরে। গত কয়েক বছর ধরে থাকে রাজশাহী রেলস্টেশনে। একদিকে সংসারের অভাব, অন্যদিকে নিজের বিকলাঙ্গ। প্রতিবন্ধী হবার পরেও কখনো পেপার আবার মানুষের সাহায্য নিয়ে চলে তার জীবন। বাবা পেশায় দর্জির কাজ করার পরেও তেমনভাবে কুলিয়ে উঠতে না পারায় পড়ার পাঠ চুকিয়ে এখন প্রতিদিন স্টেশনে পার হয় তার দিন। গত কয়েক মাস পরে বড় বোনের বিয়ে। সেজন্য প্রয়োজন অনেক টাকার। সেজন্য তেমনভাবে যাওয়া হয় না বাড়িতে। সকাল হলে ট্রেনের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। শুরু হয় ব্যস্ততা। পেপার নিয়ে ছুটা। না চাইতেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় সেই পেপার কাস্টমারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। আবার ট্রেনের মধ্যে গিয়ে চলে পানি বিক্রির কাজ। জীবনের তাগিদে তাকেও বুঝতে হয় অনেক কিছুই। রাত ঘনিয়ে আসলে শেষ আশ্রয় স্থল হয়ে হঠে স্টেশনের মেঝে।

অন্যদিকে, ৭ বছর বয়সী হাসান। পরিচয়বিহীন এই ছেলেটি জানে না তার নিজের বেড়ে উঠাও। কে বা তার বাবা কে’বা তার মা। আজ এ স্টেশন তো, কাল অন্য কোন স্টেশনে রাত পার হয় হাসানের। তবে তাকে সন্ধ্যা হলেই প্রায় দেখা যায় রাজশাহী রেলস্টেশনে। হাতে ২/১ টি পেপার নিয়ে। তাকে পড়াশুনার কথা জিজ্ঞাসা করা হয়। এবিষয়ে কিছুই বলতে না পারলেও পোশাক-স্কুলের ঘন্টা ভাল লাগে তার, সে চাই সবার মতো স্কুলে গিয়ে খেলতে- এমনই জানায় সে। এমন আর একজন শিশু হচ্ছে আসাদ। মায়ের একমাত্র সন্তান হয়ে উঠতে পারলেও বাবার একমাত্র সন্তান হয়ে উঠতে পারেনি। তার বাড়ি রাজশাহী ভেড়িপাড়া। বাবার নাম কেরামত আলী লোকমুখে শুনা তার জন্মের কয়েক মাস পরেই বাবা ছেড়ে চলে যায় তার মাকে। আসাদের ঠিক মতো মনে নেই তার পরাশুনার হিসাব। ক্লাসে গেছে কি না কে জানে, তবে কোনোভাবে লিখতে পারে তার নাম। সংসারের অভাবে ছেড়ে চলে যায় তার বাবা। ঘর বাধে অন্য কোন খানে। যদিও সে কথা জানে না সে নিজেও। অভাবের কারনেই পড়াশোনা ছেড়ে পরিবারে জন্য স্টেশন বিক্রি করে পেপার, পানি। বাবা ছেড়ে গেলেও মা তাহেরা বেগম তার দায়বদ্ধতা থেকে ফিরিয়ে নিতে পারেনি নিজেকে। বড় মেয়ে এবার ক্লাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার মা নিজে কাজ করেন। কখনো মেসে আবার বাসা বাড়িতেও।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি নথি অনুয়ায়ী বলা হচ্ছে, গত ১০ বছরে শিক্ষার হার বেড়েছে ৭৩ শতাংশের উপরে। তবুও শিক্ষা হতে বঞ্চিত সূর্য, আসাদ, হাসানদের মতো শিশুরা। বিশ্ব শিশু দিবসকে ঘিরে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার অধিকার হতে বঞ্চিত এসব শিশুর কি কোনো ব্যবস্থা হবে?

স/শা

Print