প্রবীণ দিবস কি, জানেন না ওরা!

বাগাতিপাড়ায় প্রবীণ দুই ভাইয়ের মানবেতর জীবন-যাপন

October 1, 2019 at 10:04 pm

মঞ্জুরুল আলম মাসুম
প্রবীণ দিবস কি জানিনা। দিবসে কি হয় তাও বুঝিনা। শুধু বুঝি বৃদ্ধ বয়সেও পেটের দায়ে কাজ করে খেতে হয়। কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার ৮০ উর্দ্ধ বয়সের প্রবীণ দুই ভাই ভবেষ চন্দ্র ও আশ্বিন কর্মকার।

ভবেষ চন্দ্র কর্মকারের বয়স ৮৪ বছর। তিনি পাঁচ ছেলে সন্তানের বাবা। তার ছেলেরা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণকারের কাজ করেন। কিন্তু বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ রাখেন না। বয়সের ভারে নূয়ে পড়া বাবা তাই দু-বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য করছেন কামারের কাজ। ভারি হাতুড়ি উপরে ওঠাতে পারেন না। কিন্তু তবুও ক্ষুধার জ্বালায় জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়েও জীবীকার তাগিদে চলছে সংগ্রাম। ওভাবেই অতিকষ্টে লোহা পিটিয়ে গড়ছেন দা-বটি-ছুরি-কাস্তেসহ লোহা সামগ্রী। এসব কাজ করে যা পান তাই দিয়ে দিন শেষে চাল-ডাল কিনেন ভবেষ চন্দ্র। তবুও মেলেনি বয়স্ক ভাতা।

অপরদিকে তারই আপন ভাই আশ্বিণ কর্মকার। তার বয়স ৮২ বছর। দুই ভাইয়ের পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস। তার রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তারা সবাই বিবাহিত। ছোট ছেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তপুরে থেকে স্বর্ণকারের কাজ করেন। বড় ছেলে বাড়িতে থাকলেও তার তিনটি সন্তান নিয়ে নিজেই অভাবগ্রস্থ। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখার কেউ নেই। বাড়ির ভিটা ছাড়া জায়গা জমিও নেই। তাই শরীরে বল-শক্তি না থাকলেও অভাবের তাড়নায় অসুস্থ্য শরীরে বাপ-দাদার পেশা কামারের কাজ করেই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালান। সামান্য আয়ের টাকায় খাবার আর ঔষধ কিনে জীবন চালাতে হচ্ছে। তারা দুই ভাই কামারের একাজটি প্রায় ৬৫ বছর ধরে করে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার প্রবীণ দিবসে সরেজমিন পাঁকা কর্মকার পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বড় ভাই ভবেষ চন্দ্র দা, হাসুয়া, বটি ও ছুরি পোড়ানোর পরে র‌্যাত (ধার করা যন্ত্র) দিয়ে ধার দিচ্ছেন। আর ছোট ভাই আশ্বিন কর্মকার হাসুয়া পোড়াচ্ছেন। ক্লান্ত প্রবীণ এই দুই সহোদর অসুস্থ্য শরীরে ভালো মতো কথাও বলতে পারছিলেন না। বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে ছোট্ট দুইটি খুপরি দোকানে দুই ভাই কামারের কাজটি করেন।

দুই ভাইয়ের জীবন যাপনের বিষয়ে পাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদ হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, চলতি বছর আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে। সামনে বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ডের আবেদনের সময় আসলে ওই দুই ভাইয়ের কার্ডের ব্যবস্থা তিনি করবেন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রেজাউল করিম আগামীতে তাদের বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তুর্ভূক্তের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

স/অ

Print